পূজায় সাজ দীর্ঘক্ষণ ঠিক রাখার মেকআপ টিপস

পূজার দিনগুলোতে সাজগোজ। ছবি: এআই
পূজার দিনগুলো সকাল থেকে শুরু হয়ে যায় সাজের প্রস্তুতি। শাড়ি, গয়না, চুলের সাজ সবকিছু ঠিকঠাক করার পর সবচেয়ে বড় চিন্তা থাকে মেকআপ নিয়ে। বিশেষ করে পূজার ভিড়, গরম, ঘাম, দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা আর একের পর এক ছবি তোলার মধ্যে মেকআপ ঠিক রাখা বেশ কঠিন। তবে কিছু কৌশল মেনে মেকআপ করলে সারাদিনই সতেজ ও পরিপাটি লুক ধরে রাখা সম্ভব।
মেকআপের আগে ত্বকের প্রস্তুতি
দীর্ঘক্ষণ মেকআপ ঠিক রাখার প্রথম শর্ত হলো ত্বককে ভালোভাবে প্রস্তুত করা। মেকআপ শুরুর আগে মুখ পরিষ্কার করে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। ত্বক তৈলাক্ত হলে হালকা ময়েশ্চারাইজার বেছে নেওয়া ভালো। অন্যদিকে, শুষ্ক ত্বকে ময়েশ্চারাইজার বাদ দিলে ফাউন্ডেশন ফেটে যেতে পারে বা ত্বকে অসমান দেখাতে পারে। দিনের বেলায় পূজামণ্ডপে ঘোরাঘুরি করলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করাও জরুরি। সানস্ক্রিন লাগানোর পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে মেকআপ শুরু করলে ত্বকে প্রসাধনীর স্তর ভালোভাবে বসতে পারে।
প্রাইমার ব্যবহারে মিলবে দীর্ঘস্থায়ী বেস
মেকআপ দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রাইমার বেশ কার্যকর। বিশেষ করে নাক, কপাল ও থুতনির মতো যেসব জায়গায় দ্রুত তেল জমে, সেখানে অল্প পরিমাণ ম্যাটিফাইং প্রাইমার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পুরো মুখে অতিরিক্ত প্রাইমার লাগানোর প্রয়োজন নেই। ত্বকের ধরন বুঝে সঠিক প্রাইমার বেছে নিলে মেকআপের বেস আরও মসৃণ দেখাবে এবং দ্রুত তেলতেলে হয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।
হালকা ফাউন্ডেশনেই নিখুঁত সাজ
অষ্টমীর দিনে ভারী বেস মেকআপের বদলে হালকা থেকে মাঝারি কভারেজের ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা ভালো। বেশি ফাউন্ডেশন লাগালে গরমে ও ঘামে মেকআপ কেকি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রথমে পাতলা একটি স্তর লাগিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন। যেখানে বাড়তি কভারেজ প্রয়োজন, শুধু সেসব জায়গায় দ্বিতীয় স্তর ফাউন্ডেশন বা কনসিলার ব্যবহার করুন। এতে মেকআপ দেখতে স্বাভাবিক লাগবে এবং ত্বকের ওপর ভারী অনুভূতিও হবে না।
পাউডার ব্যবহারে চাই ভারসাম্য
বেস মেকআপ ঠিক রাখতে ট্রান্সলুসেন্ট বা কমপ্যাক্ট পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পুরো মুখে মোটা করে পাউডার লাগানোর প্রয়োজন নেই। নাক, কপাল ও থুতনির মতো যেসব জায়গায় দ্রুত তেল জমে, সেখানে অল্প পাউডার ব্যবহার করাই যথেষ্ট। অতিরিক্ত পাউডার মুখের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমিয়ে দিতে পারে এবং দিনের আলোতে মেকআপকে ভারী দেখাতে পারে। তাই ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী পাউডার ব্যবহার করাই ভালো।
চোখের সাজে ওয়াটারপ্রুফ প্রসাধনী
যেকোন সাজে চোখের মেকআপের গুরুত্ব অনেক। শাড়ির সঙ্গে মানানসই আইলাইনার, কাজল ও মাসকারা পুরো লুককে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পরিকল্পনা থাকলে ওয়াটারপ্রুফ বা স্মাজ-প্রুফ আইলাইনার ও মাসকারা ব্যবহার করা ভালো। এতে ঘাম বা আর্দ্রতার কারণে চোখের মেকআপ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে। চোখের নিচে সামান্য পাউডার ব্যবহার করলেও মেকআপ পরিপাটি রাখতে সাহায্য করতে পারে।
লিপস্টিক থাকবে ঠোঁটে দীর্ঘক্ষণ
খাওয়াদাওয়া বা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার কারণে লিপস্টিক দ্রুত উঠে যেতে পারে। তাই লিপস্টিক ব্যবহারের আগে ঠোঁট মসৃণ করে নেওয়া জরুরি। ঠোঁট শুষ্ক হলে হালকা লিপ বাম লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। এরপর অতিরিক্ত অংশ টিস্যু দিয়ে মুছে লিপ লাইনার দিয়ে ঠোঁটের আউটলাইন তৈরি করুন। লিপস্টিকের প্রথম স্তর লাগানোর পর টিস্যু দিয়ে আলতো করে ব্লট করে দ্বিতীয় স্তর লাগাতে পারেন। এতে লিপস্টিক তুলনামূলকভাবে বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে।
ব্লাশ ও হাইলাইটারে থাকুক পরিমিতি
যেকোন সাজে গালে হালকা ব্লাশ মুখে সতেজতা এনে দেয়। শাড়ি ও গয়নার সঙ্গে মানানসই ব্লাশের রং বেছে নিলে সাজ আরও আকর্ষণীয় দেখায়। তবে দিনের বেলায় অতিরিক্ত ব্লাশ বা হাইলাইটার ব্যবহার না করাই ভালো। প্রাকৃতিক আলোতে বেশি ঝিলমিলে প্রসাধনী অনেক সময় মেকআপকে ভারী দেখাতে পারে। তাই হালকা ব্লাশ ও প্রয়োজনমতো হাইলাইটার ব্যবহার করে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখা যায়।
সঙ্গে থাকুক ছোট্ট টাচ-আপ কিট
সারাদিন পূজামণ্ডপে ঘোরাঘুরি কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ব্যাগে ছোট একটি টাচ-আপ কিট রাখা বেশ কাজে দেয়। কমপ্যাক্ট পাউডার, লিপস্টিক, টিস্যু বা ব্লটিং পেপার এবং একটি ছোট আয়না সঙ্গে রাখতে পারেন। মুখে তেল জমলে টিস্যু দিয়ে ঘষে মুছে ফেলবেন না। বরং নরম টিস্যু বা ব্লটিং পেপার দিয়ে আলতো করে চাপ দিয়ে অতিরিক্ত তেল শুষে নিন। এরপর প্রয়োজন হলে অল্প পাউডার ব্যবহার করে মেকআপ ঠিক করে নিন।
সেটিং স্প্রেতে শেষ স্পর্শ
মেকআপের সব ধাপ শেষ হলে সেটিং স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি মেকআপকে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী পণ্য বেছে নেওয়া জরুরি। পূজার দিন নতুন কোনো প্রসাধনী প্রথমবার ব্যবহার না করাই ভালো। আগে ব্যবহার করে ত্বকে কোনো অস্বস্তি বা অ্যালার্জি হচ্ছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া উচিত।
সাজের পাশাপাশি স্বাচ্ছন্দ্যও জরুরি
যেকোন সাজের মূল কথা হলো পরিমিতি ও স্বাচ্ছন্দ্য। দীর্ঘ সময় মেকআপ ঠিক রাখতে অনেক প্রসাধনী একসঙ্গে ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। বরং ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক পণ্য বেছে নিয়ে হালকা হাতে মেকআপ করা এবং প্রয়োজনমতো টাচ-আপ নেওয়াই যথেষ্ট। শাড়ি, গয়না, চুলের সাজ ও মেকআপ সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য থাকলেই অষ্টমীর সাজ হয়ে উঠবে পরিপাটি ও আকর্ষণীয়। মেকআপ ঠিক আছে কি না, সেই চিন্তায় উৎসবের আনন্দ যেন ম্লান না হয়।
পূজার ভিড়, গরম আর ঘোরাঘুরিতে মেকআপ ঠিক রাখাই হয়ে ওঠে বড় চ্যালেঞ্জ। কিছু সহজ কৌশল জানা থাকলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সাজে থাকবে সতেজতা, আর উৎসবের আনন্দও হবে নির্ভার।



