২২০ বছরের পুরনো সূর্যপুরী আমগাছ!

ছবি: আগামীর সময়
মানুষ নাকি দূর-দূরান্ত থেকে টাকা খরচ করে, টিকিট কেটে স্রেফ একটা আমগাছ দেখতে আসে!
কথাটা প্রথম শুনে সত্যিই চমকে উঠেছিলাম। টিকিট কেটে সিনেমা দেখা যায়, থিয়েটার দেখা যায়, দর্শনীয় স্থান দেখা যায়; তাই বলে একটা আমগাছ দেখতে টিকিট? টিকিটের দাম একেবারে কম নয়, ২০ টাকা!
নিশ্চয়ই এ গাছ আর দশটা সাধারণ আমগাছের মতো নয়। কাছে গিয়ে বুঝলাম, বিস্মিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মণ্ডুমালা গ্রামে গেলে এই বিখ্যাত আমগাছের দর্শন মিলবে। লোকে বলে সূর্যপুরী আমগাছ। তার ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য আর দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে সূর্যপুরী আমগাছ শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, দেশের নানা প্রান্তেও পরিচিত। স্থানীয়দের দাবি, এটি এশিয়ার বৃহত্তম ও প্রাচীন আমগাছগুলোর অন্যতম।
ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গীর মণ্ডুমালা গ্রামে গেলে এই আমগাছের দর্শন মিলবে
গাছটির পাশে দাঁড়াতেই চোখে পড়ল উপজেলা প্রশাসনের সাঁটানো তথ্যবোর্ড। জানা গেল, আনুমানিক তিন শতাব্দী আগে এই আমের বীজ এসেছিল উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের সূর্যপুর এলাকা থেকে। গ্রামের নাম অনুসারেই এর নাম হয়— সূর্যপুরী। কীভাবে সেই অজানা পথ পেরিয়ে জাতটি এসে ঠাঁই নিয়েছিল এই সীমান্তের মাটিতে, তার সুনির্দিষ্ট ইতিহাস জানা যায় না। তবে ঠাকুরগাঁওয়ের সূর্যপুরী আমের একটি বিশেষত্ব হলো— এই জাত অন্য জেলায় খুব একটা দেখা যায় না।
জনশ্রুতি বলছে, তৎকালীন জমিদার সত্যেন্দ্রনাথ ও তার অন্তরঙ্গ বন্ধু বৈরী ধনী— দুজন মিলে এই গাছ রোপণ করেছিলেন।
তবে ঠিক কত বছর আগে এটি লাগানো হয়েছিল, তার নির্ভুল হিসাব কারও জানা নেই। কেউ বলেন তিনশ বছর, কেউ বলেন তারও বেশি; আবার প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী গাছটির আনুমানিক বয়স ২২০ বছরের বেশি।
গাছটির বিশালত্ব চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। প্রায় দুই বিঘার বেশি জমি জুড়ে ছড়িয়ে আছে তার বিস্তৃত শরীর। উচ্চতা আনুমানিক ৮০ থেকে ৯০ ফুট। মূল কাণ্ডের ঘের প্রায় ৩৫ ফুট। কাছে গিয়ে চোখ আটকে গেল তার অদ্ভুত কাঠামোয়। গাছটির ১৯টি মোটা ডাল তিন দিক থেকে ছুটে গিয়ে আবার মাটিকে আঁকড়ে ধরেছে। ডালগুলো এত প্রশস্ত ও শক্তিশালী যে, চাইলে তার ওপরে অনায়াসে বসে গল্প করা যায়। অবশ্য গাছটির কাণ্ডে ঝোলানো একটি সাইনবোর্ড সেই প্রলোভনে লাগাম দেয়—‘গাছে ওঠা বা পাতা ছেঁড়া নিষেধ। নির্দেশ অমান্য করলে ৫০০ টাকা জরিমানা।’
নিষেধাজ্ঞাটি চোখে পড়ার পর মনে হলো, এটি আসলে শত শত বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রাচীন বৃক্ষটি বাঁচিয়ে রাখার আকুল চেষ্টা।



