মানুষ সংগ্রাম থেকেই বেশি শেখে

ঢালিউড থেকে বলিউড, অভিনয়ের অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পছন্দের কাজের সুযোগ নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেছেন আরিফিন শুভ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন স্বর্ণা রায়
‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ ওয়েব ফিল্মে যুক্ত হওয়ার পেছনে কোন বিষয়টি আপনাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছিল?
ওয়েব ফিল্মটির জন্য প্রথমে অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পরে পরিচালক জাহিদ প্রীতম এসে গল্পটা শোনান। কনসেপ্টটি আমার কাছে একটু ভিন্ন লেগেছে। এমন কিছু বিষয় এতে উঠে এসেছে, যেগুলো নিয়ে সাধারণত গল্প বলা হয় না। সম্পর্কের গল্পে বড় কোনো ঘটনা ছাড়াও মানুষের অনুভূতি ও বাস্তবতা তুলে ধরা যায়।
‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর শুটিংয়ে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে, যা চিত্রনাট্যে ছিল না, অথচ পরে সেটিই আপনার সবচেয়ে মনে রাখার মতো অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে?
শুটিংয়ে অনেক কিছুই পরিকল্পনার বাইরে ঘটে। তবে সব মুহূর্ত ক্যামেরায় ধারণ করা হয় না, আবার সব স্বতঃস্ফূর্ত মুহূর্ত পর্দায় রাখারও প্রয়োজন নেই। ওয়েব ফিল্মটির ক্ষেত্রে পুরো টিমের সঙ্গে একটা স্বচ্ছন্দ পরিবেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভালো লেগেছে। পরিচালক জাহিদ প্রীতম খুব পরিশ্রমী একজন নির্মাতা।
‘জ্যাজ সিটি’ দিয়ে বলিউডে আপনার যাত্রা শুরু হয়েছে। সিরিজটি মুক্তির পর কোন প্রতিক্রিয়া আপনাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত করেছে?
সবচেয়ে ভালো লেগেছে, এটি বাংলাদেশের বাইরের দর্শকের কাছেও পৌঁছেছে। একজন অভিনেতা হিসেবে ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির দর্শকের কাছে নিজের কাজ পৌঁছানো অবশ্যই আনন্দের। ‘জ্যাজ সিটি’ আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। এই প্রথম হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজিতে সংলাপ বলেছি। বিষয়টি দেখে অনেকেই শুরুতে অবাক হয়েছেন, আমার কাছে এটা ছিল ভালো লাগার।
যেকোনো দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ওঠানামা থাকে। সবসময় পছন্দের গল্প ও চরিত্র আসবে না। এটাই বাস্তবতা
ঢালিউডে কাজ করা আর বলিউডের কোনো প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতার মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য কোথায় দেখেছেন; কাজের ধরনে, প্রস্তুতিতে, নাকি শিল্পীদের মূল্যায়নে?
আমার কাছে সবচেয়ে বড় পার্থক্যটা কাজের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনায়। বড় প্রকল্পে শুটিংয়ের আগে থেকে পরিকল্পনা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়ের ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমাদের বাজেট, সরঞ্জাম ও কারিগরি সুযোগের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। এগুলোর মধ্যেই কাজের মান ধরে রাখার চেষ্টা করতে হয়।
‘জ্যাজ সিটি’র পর বলিউডে নতুন কোনো কাজের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে?
ওখানে কোনো প্রকল্পে যুক্ত হতে বেশ লম্বা একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমিও সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই আছি। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী হয়।
‘মালিক’ সিনেমার পর ঢালিউডে নতুন কী কাজ নিয়ে পরিকল্পনা বা প্রস্তুতি চলছে?
বিশ্বাস করি, কাজের খবর কাজ দিয়েই দেওয়া উচিত। আগাম কিছু বলতে চাই না।
‘ঠিকানা বাংলাদেশ’ ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। এতে কাজ করা প্রসঙ্গে বলুন।
দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে সিনেমাটি। অনম বিশ্বাস আমাকে এমন একটি গল্পে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। বাকিটা ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’ দেখলেই দর্শক বুঝতে পারবেন।
দর্শক এখন তারকাদের অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিত্ব, জীবনযাপন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপস্থিতিও অনুসরণ করেন। এই বাড়তি প্রত্যাশা কি কখনো আপনার ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় সংঘাত সৃষ্টি করে?
দর্শকের ভালোবাসা ছাড়া তারকা হয়ে ওঠা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে নিজের জন্যও কিছু জায়গা রাখা জরুরি। আমি মনে করি, কী শেয়ার করব আর কী ব্যক্তিগত রাখব, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা প্রত্যেক মানুষের থাকা উচিত।
একজন অভিনেতার সবচেয়ে বড় সাফল্য কি দর্শকের ভালোবাসা পাওয়া, নাকি এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করা, যেটি তার সম্পর্কে দর্শকের আগের ধারণা বদলে দেয়?
দুটোকে আলাদা করে দেখার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। দর্শকের ভালোবাসা কাজ করার শক্তি দেয়। আর এমন একটি চরিত্র, যেটি দর্শকের আগের ধারণা বদলে দেয়, সেটি একজন অভিনেতা হিসেবে নিজের পরিসরকে বড় করে।
একজন তারকার ক্যারিয়ারে এমন সময় আসতে পারে, যখন জনপ্রিয়তা আছে, কিন্তু নিজের পছন্দের কাজের সুযোগ সীমিত। আপনি কি কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন?
যেকোনো দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ওঠানামা থাকে। সবসময় পছন্দের গল্প আসবে না, সবসময় পছন্দের চরিত্রের জন্য ভাবা হবে না। এটাই বাস্তবতা।
আজকের আরিফিন শুভ যদি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের শুভর সঙ্গে পাঁচ মিনিট কথা বলার সুযোগ পেতেন, তাহলে তাকে কোন একটি পরামর্শ দিতেন?
বলতাম, সময়ের আগে কিছু পাওয়ার চেষ্টা করো না, প্রতিটি অভিজ্ঞতার নিজস্ব মূল্য আছে। আর কঠিন সময়গুলো এড়িয়ে যেও না, কারণ মানুষ সাফল্যের চেয়ে সংগ্রাম থেকেই বেশি শেখে।



