শাহরুখের চেয়ে নিজের দিকে মনোযোগ দিয়েছি

অভিনেতা সাদ সালমি নাওভী
শুক্রবার ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে ওয়েব ফিল্ম ‘মিশন ডিডিএলজে’। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাদ সালমি নাওভী। রোমান্টিক নায়ক হিসেবে দর্শকের নজর কাড়া এই অভিনেতার সঙ্গে আলাপ করেছেন স্বর্ণা রায়
‘মিশন ডিডিএলজে’তে যুক্ত হওয়ার পেছনে আপনার মূল প্রেরণা কী ছিল? মূল ‘ডিডিএলজে’ (বলিউডের ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’)-এর সঙ্গে এই প্রকল্পের কোনো সম্পর্ক আছে?
শাহরুখ-কাজলের ‘ডিডিএলজে’ ছোটবেলা থেকেই আমার খুব প্রিয় একটি সিনেমা। শৈশবের স্মৃতির সঙ্গে এটি জড়িয়ে আছে। আমাদের মধ্যে এটি এক ধরনের নস্টালজিয়া, অনুভূতি ও আবেগ তৈরি করেছে। তাই যখন ‘ডিডিএলজে’ ধারণা নিয়ে বাংলাদেশে ভিন্ন ধরনের একটি চলচ্চিত্র তৈরির পরিকল্পনা করা এবং আইস্ক্রিন থেকে আমাকে এতে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলো, তখন কনসেপ্টটি শুনেই আমি কাজটি করার জন্য রাজি হয়ে যাই।
ধ্রুব চরিত্রটি নিয়ে আপনার উপলব্ধি কী?
গল্পটি মূলত ‘ডিডিএলজে’তে শাহরুখ খান অভিনীত রাজ চরিত্রটি যেভাবে কিছু নির্দিষ্ট কৌশল অনুসরণ করে কাজল অভিনীত সিমরানকে পেয়েছিল, সেই ধারণাকে বর্তমান সময়ে এনে দেখা। বাস্তবজীবনে সবসময় একই কৌশল কাজে লাগবে কিংবা সেই কৌশলেই প্রেম হবে, তা তো জরুরি নয়। এখনকার দিনে একটি ছেলে যদি রাজের একই কৌশল অনুসরণ করে, তাহলে তাকে কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, মূলত সেটি নিয়েই আমাদের ‘মিশন ডিডিএলজে’।
একজন রোমান্টিক নায়কের প্রচলিত ধারণার সঙ্গে ধ্রুব কতটা মেলে?
ধ্রুব অনেকটা স্পন্টেনিয়াস, ফান-লাভিং ও ফানি একটি চরিত্র। শুরুতে সে আসলে রোমান্সটা বুঝতে পারে না। কিন্তু যখন বুঝতে পারে, তখন ভালোবাসার জন্য পুরোপুরি নিবেদিতপ্রাণ হয়ে যায়। সেই জায়গা থেকে প্রচলিত রোমান্টিক নায়কের সঙ্গে তার মিল আছে। তবে ধ্রুবের নিজের আলাদা জার্নি ও স্ট্রাগলও রয়েছে।
ধ্রুব যদি সত্যিই ২০২৬ সালের একজন যুবক হতো, তাহলে ‘ডিডিএলজে’র রাজের কোন কাজটি সে আজকের সময়ে করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ত বলে মনে করেন?
ওই বিষয়টিই আসলে গল্পের মধ্যে আছে। বিশেষ করে পরিবারকে রাজের মতো করে রাজি করানোর বিষয়গুলো এখনকার সময়ে একইভাবে কাজ নাও করতে পারে। ধ্রুব যখন সেই কৌশলগুলো অনুসরণ করার চেষ্টা করে, তখনই বুঝতে পারে, বাস্তবতা একটু আলাদা।
দিনশেষে প্রেম-ভালোবাসার ক্ষেত্রে সবার আবেগ তো একই রকম থাকে। ধ্রুব যেমন খুবই টিপিক্যাল ফান-লাভিং একটা ছেলে, আমিও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অনেকটা এমনই ছিলাম
শাহরুখ খান অভিনীত চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলার প্রকল্পে অভিনয় করতে গিয়ে কোনো ধরনের চাপ অনুভব করেছেন?
না, আমি কোনো চাপ অনুভব করিনি। কারণ চরিত্রটির সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই আমার একটা কানেকশন ছিল। আমার মধ্যেও ধ্রুবর কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। হয়তো সেই কারণে আইস্ক্রিন শুরুতেই আমাকে এ চরিত্রের জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল। তাই শাহরুখ খানের রাজ চরিত্রটিতে কীভাবে অভিনয় করব, তা নিয়ে ভাবার চেয়ে নিজের মতো করে ধ্রুব চরিত্র ফুটিয়ে তোলার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছি।
বাস্তবজীবনে প্রেমের ক্ষেত্রে ধ্রুব আর সাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য কোথায়?
দিনশেষে প্রেম-ভালোবাসার ক্ষেত্রে সবার আবেগ তো একই রকম থাকে। ধ্রুব যেমন খুবই টিপিক্যাল ফান-লাভিং একটা ছেলে, আমিও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অনেকটা এমনই ছিলাম। তাই ধ্রুবর সঙ্গে নিজের খুব একটা পার্থক্য খুঁজে পাইনি।
নব্বই দশক আর বর্তমান সময়ের প্রেমের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য কোথায় বলে মনে করেন?
সবচেয়ে বড় পার্থক্য হচ্ছে, আগে মানুষের মধ্যে কমিটমেন্টের বিষয়টি ছিল। একটা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ার মানসিকতাও ছিল। এখন বিশ্বায়ন, ইন্টারনেট এবং সবার সঙ্গে খুব সহজে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় অনেক সময় সম্পর্কগুলো অনেক ঠুনকো হয়ে যায়। অনেক সম্পর্ক খুব ছোট কারণে ভেঙে যায়।
‘মিশন ডিডিএলজে’র পর এখন কী করছেন?
বর্তমানে টেলিভিশন নাটক এবং ইউটিউব নাটক নিয়ে একটু ব্যস্ত সময় পার করছি। এগুলো শিগগিরই মুক্তি পাবে।
‘তাণ্ডব’ ও ‘মিশন ডিডিএলজে’র পর ভবিষ্যতে চলচ্চিত্রে কী ধরনের চরিত্রে নিজেকে দেখতে চান?
আমি সব ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। ক্যারিয়ার যেহেতু এখনো একেবারে শুরুর দিকে, তাই আমার অনেক কিছু শেখার বাকি আছে। এখন যে ধরনের চরিত্র পাচ্ছি বা পরিচালকরা আমাকে যেসব চরিত্রে দেখতে চাইছেন, সেগুলোতেই অভিনয় করছি। তবে আমি কোনো নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রে আটকে থাকতে চাই না। এখন যেহেতু রোমান্টিক কমেডি করছি, তাই সে জায়গাই ফলো করছি। ভবিষ্যতে অভিনয়ের জায়গা থেকে আরও ম্যাচিউর হলে একটু ডিফারেন্ট শেডের, স্বাভাবিক মানবিক চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। ভবিষ্যতে হয়তো অ্যান্টিহিরো কিংবা রহস্যময় চরিত্রে আমাকে দেখতে পাবেন। আমি নিজের স্কিল ডেভেলপ করতে চাই এবং ভবিষ্যতে পরিচালকরা যদি চ্যালেঞ্জিং চরিত্রের জন্য আমার ওপর আস্থা রাখেন, সেগুলোতেও অভিনয় করে দেখাতে চাই।
‘মিশন ডিডিএলজে’র শুটিং সেটে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে, যা দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান?
আমরা অনেকটা দৌড়াদৌড়ির মধ্যে শুটিং করেছি। তবে পুরো টিমের মধ্যে দারুণ বন্ডিং ছিল। প্রোডাকশন ম্যানেজার থেকে শুরু করে সহকারী পরিচালক এবং অন্যান্য সাপোর্টিং সদস্য— সবার মধ্যে একটা পিকনিকের মতো পরিবেশ ছিল। সবাই সবার সঙ্গে খুব ফ্রেন্ডলি ছিল। সেই জায়গা থেকে পুরো অভিজ্ঞতাটা আমার জন্য ছিল খুবই সুন্দর।



