আবরারের আত্মদান জাতিকে প্রতিরোধের শক্তি দিয়েছে: রিজভী

শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মদান গোটা জাতিকে আরও সংগঠিত করেছে এবং আগ্রাসী ও সম্প্রসারণবাদী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের শক্তি জুগিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন রিজভী।
রিজভী বলেছেন, ‘আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি। কিন্তু দেশের প্রশ্নে, জাতির প্রশ্নে আমরা কখনোই আত্মসমর্পণ করব না। আমাদের অস্তিত্ব ও ভূমি রক্ষার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।’
আবরার ফাহাদের আত্মদানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেছেন, আবরারের আত্মদানের মধ্য দিয়ে ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী’ কথাটি নতুন করে প্রমাণিত হয়েছে। জনগণের স্বার্থের বাইরে কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেছেন, ‘তোমরা হয়তো অনেক কিছুই করতে পারো, অনেক চুক্তি করতে পারো। কিন্তু জনগণ বিনা যুদ্ধে আমার স্বার্থের বাইরে কিছু যায়, সেখানে আপস করবে না।’
আবরারের আত্মদানকে শুধু একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, তার ফেসবুক পোস্টের প্রতিটি শব্দ ছিল অত্যন্ত ধারালো, শানিত ও তীক্ষ্ণ। দেশের শত্রু এবং যারা বাংলাদেশকে করায়ত্ত করতে চায়, আগ্রাসী থাবার মধ্যে রাখতে চায়, আবরারের বক্তব্য ছিল তাদের বিরুদ্ধে।
তিনি আরও বলেছেন, আবরারকে আক্রমণ ও হত্যার মধ্য দিয়ে তাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, যাতে আর কেউ এ ধরনের কথা বলার সাহস না পায়। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বরং আবরারের মৃত্যু গোটা জাতিকে আরও সংগঠিত করেছে এবং আগ্রাসী ও সম্প্রসারণবাদী শক্তির বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিরোধের শক্তির স্ফুরণ ঘটিয়েছে।
রিজভী বলেছেন, ‘আবরার এ দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তির এক অনন্য উজ্জ্বল প্রজ্জ্বল প্রতীক। এই প্রতীককে কেউ অবগুণ্ঠন করে রাখতে পারবে না, একে কখনো কুণ্ঠিত করতে পারবে না।’
আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসিরসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



