৪.২৫ টাকায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, বাঁচবে হাজার কোটি টাকা

তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিশাল খরচের ধকল থেকে মুক্তি পেতে বড় সমাধান হতে পারে ছাদভিত্তিক সৌর শক্তি। ছবি : সংগৃহীত
কয়লা বা তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিশাল খরচের ধকল থেকে মুক্তি পেতে বড় সমাধান হতে পারে ছাদভিত্তিক সৌর শক্তি। যেখানে প্রচলিত গ্রিড বিদ্যুতের চড়া মূল্যের দিনে মাত্র ৪.২৫ টাকায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। যা বিশ্ববাজারের জ্বালানিসংকট বা যুদ্ধের প্রভাবেও অপরিবর্তিত থাকবে।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত নাগরিক সংলাপে প্রকাশিত ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
এতে দেখা যায়, ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ১৫০টি কলেজ, রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও শৌলকূপায় সমন্বিতভাবে ১৩২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে, যা বাস্তবায়ন হলে বছরে ১৯ কোটি ২৭ লাখ ৪৭ হাজার ইউনিট ও ২০ বছরে ১২০ গিগাওয়াট আওয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। পাশাপাশি বছরে ১ লাখ ১৯ হাজার ৫০২ টন কার্বন নিঃসরণ কমানোর সুযোগ রয়েছে।
গবেষণা তথ্য উপস্থাপন করে প্রভাষক সিহাব উদ্দিন জানান, ৩১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অব্যবহৃত ছাদে ৫২.৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য ২৮৮ কোটি টাকা বিনিয়োগে ২০ বছরে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আসবে, ১৫০টি কলেজের ছাদে ৫১.১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে রক্ষণাবেক্ষণসহ ইউনিট প্রতি খরচ পড়বে ৪.১৫ টাকা। আর রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ১৩৫.৫ কোটি টাকা বিনিয়োগে ২৪.৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ২০ বছরের আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে ৫১৬ কোটি টাকা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ গবেষণার প্রশংসা করে জানান, সরকার সৌরবিদ্যুতের বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক এবং আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির শুল্ক হ্রাসসহ নানা ছাড় দেওয়া হয়েছে, ফলে ভবিষ্যতে মার্চেন্ট বিদ্যুতের দর বর্তমান ৭.৫০ টাকা থেকেও নেমে আসবে।
ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম উল্লেখ করেন, সৌরশক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো জ্বালানির জন্য খরচ নেই এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতায় দাম বাড়ে না, তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ক্যাপেক্স মডেলে প্রকল্প না করে টেকসই ব্যবস্থাপনায় যাওয়া উচিত। অন্যদিকে ওমেরা এলপিজির সিইও মাসুদুর রহিমসহ ব্যবসায়ীরা অন্যের ছাদে স্থাপিত সরঞ্জামের চুরি রোধ ও বিদ্যুৎ বিল পাওয়ার নিশ্চয়তা বিধানকে মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে সরকার সমর্থিত বিনিয়োগ নিরাপত্তা ফর্মুলার দাবি জানান।
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে ও গবেষণা সমন্বয়ক শুভ কিবরিয়ার সঞ্চালনায় এতে খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।



