সামিট এলএনজি টার্মিনালের ৩০০তম স্থানান্তর সম্পন্ন

সংগৃহীত ছবি
কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে অবস্থিত সামিট এলএনজি টার্মিনালে জাহাজ থেকে জাহাজে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থানান্তরের ৩০০তম কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেড জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ও পরিচালনগত উৎকর্ষ বজায় রেখে এ মাইলফলক অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি (এসএলএনজি) জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তাদের টার্মিনাল থেকে দেশের মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় ১৮ শতাংশ সরবরাহ করা হয়েছে। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এ সরবরাহ।
২০১৯ সালের এপ্রিলে কার্যক্রম শুরুর পর থেকে টার্মিনালটি মোট ৪ কোটি ১৮ লাখ ৫৩ হাজার ২৯৪ ঘনমিটার এলএনজি গ্রহণ করেছে। একই সময়ে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে প্রায় ৯৪ কোটি ৫৩ লাখ ৩৭ হাজার ৩০৬ এমএমবিটিইউ রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ করেছে।
নিরাপদে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তর এবং টার্মিনালের কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতার জন্য এক্সিলারেট এনার্জি এলপি ও পিএসএ মেরিন সিঙ্গাপুরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে এসএলএনজি।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের কার্যক্রমে আস্থা রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার, পেট্রোবাংলা ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি বিদেশি ঋণদাতা, বিশেষ করে এসএমবিসি ও সিঙ্গাপুরের অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেছে তারা। এসব অংশীদারত্ব টার্মিনালের কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
টার্মিনালের সাফল্যে অবদান রাখায় প্রকৌশল ও শ্রেণিবিন্যাস খাতের অংশীদার ম্যাকগ্রেগর, জি-ওশান, ডিএনভি, ব্যুরো ভেরিটাস, শেলফ সাবসি ও জিওসিনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে এসএলএনজি। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, কাতারগ্যাস, বিপি, শেল, টোটাল, শেভরন শিপিং, চেনিয়ের এনার্জি, পেট্রোনাস ও এনএলএনজির মতো আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো টার্মিনালটির নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মান যাচাই করেছে।
এসএলএনজি আরও জানায়, টার্মিনালের কার্যক্রম পরিচালনায় নৌপরিবহন অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, কাস্টমস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তর (আরজেএসসি), বিস্ফোরক পরিদপ্তর, বাংলাদেশ ব্যাংক, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল), বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), মৎস্য অধিদপ্তর, স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়, রিভার পুলিশ এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা সহযোগিতা করেছে।
সমুদ্রে জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তর কার্যক্রম নিরাপদ ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদানের কথাও তুলে ধরেছে এসএলএনজি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কাতার এনার্জি, বিপি শিপিং, নাকিলাত শিপিং, মারান গ্যাস মেরিটাইম, এমওএল এলএনজি শিপম্যানেজমেন্ট, এনওয়াইকে, কে-লাইন, হুগ এলএনজি, টিকায় শিপিং, গোলার এলএনজি, শেল ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং অ্যান্ড শিপিং কোম্পানি লিমিটেড, টোটাল এনার্জিজ, শেল, ভিটল, বিপি গ্যাস, অ্যাঙ্গোলা এলএনজি, ইএনএন এলএনজি, টোটাল গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার, চেনিয়ের, পেট্রোচায়না, এক্সনমোবিল এলএনজি ও এক্সিলারেট এনার্জি।
এসএলএনজি জানিয়েছে, টার্মিনালের প্রতিদিনের নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনায় কর্মীদের নিষ্ঠা, পেশাদারত্ব ও নিরলস প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ৩০০তম জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের মাইলফলক অর্জনে কর্মীদের অবদানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।



