আগামীর সময়

মার্জিন ঋণে অনিয়ম

ডিএসইকে সাত ব্রোকারেজ হাউজ পরিদর্শনের নির্দেশ

ডিএসইকে সাত ব্রোকারেজ হাউজ পরিদর্শনের নির্দেশ

ফাইল ছবি

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্যভুক্ত সাতটি ব্রোকারেজ হাউজ (ট্রেকহোল্ডার) পরিদর্শন করার নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এরই ধরাবাহিকতায় ডিএসইকে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কার্যক্রম পরিদর্শন করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।

সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে ডিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (সিআরও) বরাবর এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

পরিদর্শনের আওতায় থাকা ডিএসইর সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজগুলো হলো- স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড (ট্রেক নং-১৫৬), জেকেসি সিকিউরিটিজ লিমিটেড (ট্রেক নং-১৭৯), আহমেদ ইকবাল হাসান সিকিউরিটিজ লিমিটেড (ট্রেক নং-১১৪), মার্চেন্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেড (ট্রেক নং-১৬৯), গ্লোব ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ফিনটেক কোম্পানি লিমিটেড (ট্রেক নং-১৮৯), শেলটেক ব্রোকারেজ লিমিটেড (ট্রেক নং-১২০) এবং কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (ট্রেক নং-১৮০)।

জানা গেছে, চলতি বছরের গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ও ৪ মার্চ এ বিষয়ে বিএসইসিতে চিঠি পাঠায় ডিএসই। একাধিক চিঠি পাঠানোর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। ডিএসইর চিঠিতে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর স্টক-ব্রোকার ও স্টক-ডিলার নিবন্ধন সনদ নবায়ন সংক্রান্ত তথ্যও তুলে ধরা হয়।

একইসঙ্গে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর প্রদান করা মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তাই পরিদর্শন কার্যক্রমে উল্লিখিত অনিয়মের পাশাপাশি অন্য কোনো বিষয় পরিলক্ষিত হলে সেগুলোও পরিদর্শনের আওতায় অোনার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ চিঠির মাধ্যমে ফরম-(ছ) দাখিল করেছে। সেখানে ব্রোকারেজ হাউজগুলো মার্জিন রুল, ১৯৯৯ এবং ২০২২ সালের ২০ মে বিএসইসির জারি করা নির্দেশনা অনুসরণ করছে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমতাবস্থায়, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০-এর বিধি ১৭(১) অনুযায়ী ডিএসইকে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হলো। উল্লিখিত অনিয়মের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো বিষয় পরিলক্ষিত হলে সেগুলোও পরিদর্শন প্রতিবেদনে তুলে ধরতে নির্দেশ দেওয়া হলো।

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শেয়ারবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিএসইসি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পরিদর্শন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম চিহ্নিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা ও বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

    শেয়ার করুন: