‘তেলাপিয়াও আড়াইশ টাকা, বাজার করাই এখন কঠিন’
- সবজির দাম চড়া, বেড়েছে চিনির দর

সংগৃহীত ছবি
‘মাছ কিনতে এসে এখন রীতিমতো অবাক হতে হয় আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের। ২৫০ টাকার নিচে কোনো মাছই পাওয়া যাচ্ছে না। তেলাপিয়াও যদি আড়াইশ টাকা কেজি হয়, তাহলে বাজার করা কঠিন হয়ে যায়।’ রাজধানীর হাতিরপুল বাজারে মাছ কিনতে এসে এভাবেই আক্ষেপ করছিলেন ক্রেতা আবু দাউদ। তার মতো অনেক ক্রেতাই বলছেন, একদিকে আয় বাড়ছে না, অন্যদিকে প্রতিদিনের বাজার খরচ বেড়েই চলছে। ফলে আগের মতো একই পরিমাণ টাকায় এখন কম পণ্য কিনে ঘরে ফিরতে হচ্ছে। মাছ বিক্রেতা শফিক মিয়া বললেন, ‘মাছের দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। এক দিন ২০-৩০ টাকা কমলে পরদিনই আবার বেড়ে যায়।’
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কাঁঠালবাগান, হাতিরপুল, কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, নিত্যপণ্যের বাজারে এখনো পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। গত মাসের তুলনায় বেশিরভাগ সবজির দাম কিছুটা কমলেও, কয়েক ধরনের সবজির দাম এখনো চড়া। অন্যদিকে মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারে দাম কমার তেমন কোনো লক্ষণ নেই। এর সঙ্গে নতুন করে বেড়েছে চিনির দাম, আর বাজারে কমেছে বোতলজাত ভোজ্য তেলের সরবরাহ। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের সংসারে বাজার খরচের চাপ কমছে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর বাজারগুলোতে অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে শিম, গাজর, টমেটো, বেগুন ও বরবটির দাম এখনো তুলনামূলক বেশি। প্রতি কেজি শিম ২০০, গাজর ১৪০, টমেটো ১৩০, বেগুন ১২০ এবং বরবটি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া করলা ৮০, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৮০, কাঁকরোল ৮০, ঢেঁড়স ৬০, পেঁপে ৪০, ধুন্দুল ৬০ এবং মুলা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। বর্তমানে সরবরাহ বাড়ায় খুচরা বাজারে তা ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারে পাইকারি পর্যায়ে মরিচের দাম আরও কম, কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১১০ টাকা।
নিউ মার্কেটে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী কামরুজ্জামান তমাল বলেছেন, ‘সবজির দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। তবে চার-পাঁচ ধরনের সবজি এখনো ১০০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। বাকিগুলোও ৬০ থেকে ৮০ টাকার নিচে নামছে না। গত মাসের তুলনায় কিছুটা স্বস্তি আছে ঠিকই, কিন্তু পুরো বাজারে স্বস্তি ফেরেনি।’
সবজি বিক্রেতা খাদিমুল ইসলাম বললেন, ‘এসব সবজির সিজন না হওয়ায় সরবরাহ কিছুটা কম। তাই দাম বেশি।’
সবজির পাশাপাশি বাজারে চড়া রয়েছে মাছের দাম। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৫০০ এবং পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০, দেশি কৈ ৭০০ থেকে ৮০০ এবং চিংড়ি ১০০ থেকে ১,৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
ইলিশের দাম তো সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে প্রতি কেজি বা দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ৩ হাজার টাকা, ১ হাজার ২০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার ৭০০, ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৬০০, ৮০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার ৪০০, ৭০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার ২০০, ৫০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ৮০০, ৩০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ৬০০ এবং ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের ইলিশ ব্যবসায়ী মো. আয়নাল মিয়া বলেছেন, পদ্মার ইলিশের যা সরবরাহ থাকে, তা চাঁদপুর ঘাটে পৌঁছানোর পরই শেষ হয়ে যায়। ঢাকার বাজার পর্যন্ত পৌঁছায় না। অনেক বিক্রেতা পদ্মার ইলিশ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা সত্য নয়।’
ডিম, মুরগি ও বোতলজাত পণ্য: ব্রয়লার মুরগি ১৯০, সোনালি ৩২০ থেকে ৩৪০ এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের ডজন ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা হলেও পাড়া-মহল্লার দোকানে তা ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা।
বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম এখনো প্রতি লিটার ২০০ টাকা। খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ থেকে ১৯০ এবং পাম তেল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা লিটার দরে। খোলা ময়দার দামও বেড়ে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি হয়েছে।






