বেসিক ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা

সংগৃহীত ছবি
বেসিক ব্যাংকের আমানত চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, গ্রাহকদের এ আস্থা ধরে রাখতে সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায়, ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্প্রসারণ এবং ব্যাংকের আয় বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
আজ শনিবার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের মুক্তি মিলনায়তনে বেসিক ব্যাংক পিএলসির শাখা ব্যবস্থাপক সম্মেলন ও ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা-২০২৬ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হেলাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, একসময় বেসিক ব্যাংক নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই সংকট মোকাবিলা করে ব্যাংককে উন্নতির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। একসময় অন্যদের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া ব্যাংকটি বর্তমানে দেশীয় ও বৈদেশিক মুদ্রায় বাজারে ঋণ দিচ্ছে। এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। বিশেষ করে বাংলা কিউআর সেবার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
খেলাপি ঋণ আদায়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকিংয়ের প্রচলিত নিয়মনীতি অনুসরণ করে ঋণ আদায় কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর করার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখতে হবে। লোকসানি শাখাগুলোকে লাভজনক করে ব্যাংকের আয় বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব শেখ ফরিদ নতুন করে খেলাপি ঋণ সৃষ্টি রোধ, স্বল্প সুদে আমানত সংগ্রহ এবং কমিশনসহ সুদবহির্ভূত আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। দেশের ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতির সঙ্গে বেসিক ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের তুলনামূলক পর্যালোচনা তুলে ধরে তিনি কর্মকর্তাদের আরও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় দেওয়া নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের তাগিদ দেন।
সরকারের অবসরপ্রাপ্ত গ্রেড-১ কর্মকর্তা ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল শাখা পর্যায়ে সেবার মান বাড়ানো এবং ব্যাংকের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। এ জন্য নিয়মিত সমন্বয় সভা আয়োজনের পরামর্শ দেন তিনি।
সাবেক অতিরিক্ত সচিব মুন্সি আব্দুল আহাদ ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি সব শ্রেণির গ্রাহককে সমান গুরুত্ব ও সম্মানের সঙ্গে সেবা দেওয়ার আহ্বান জানান। নতুন ঋণ বিতরণ এবং খেলাপি ঋণ আদায়েও জোর দেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পর্যবেক্ষক রুপ রতন পাইন ভালো ব্যাংকগুলোর অভিজ্ঞতা ও কার্যকর কৌশল কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার আওতায় ঋণ বিতরণ বাড়ানো এবং নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার মো. খায়রুল কবির দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পসম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে ক্লাস্টারভিত্তিক অর্থায়ন বাড়ানোর পরামর্শ দেন। আইনজীবী মো. লুৎফুর রহমান ব্যাংকের স্বার্থ সংরক্ষণ, রেমিট্যান্স আহরণ বৃদ্ধি এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনি প্রক্রিয়া জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফারুক আহম্মেদ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, রেমিট্যান্স আহরণ বৃদ্ধি ও স্বল্প সুদের আমানত সংগ্রহ বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু মো. মোফাজ্জেল। তিনি বলেন, নির্ধারিত ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সব বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন, আমানত সংগ্রহ বৃদ্ধি, ঋণ আদায় জোরদার এবং নতুন খেলাপি ঋণ সৃষ্টি রোধে শাখা ও উপশাখা ব্যবস্থাপকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ব্যাংকের সার্বিক অগ্রগতিতে সম্মিলিত উদ্যোগ, পেশাদারত্ব ও জবাবদিহির ভিত্তিতে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ব্যাংকের পরিচালক মুন্সি আব্দুল আহাদ, শেখ ফরিদ, ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল, ফারুক আহম্মেদ, মো. লুৎফুর রহমান ও মো. খায়রুল কবির উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ব্যাংকের দুই উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সুভাষ চন্দ্র দাস ও মো. হাসান ইমাম, মহাব্যবস্থাপক, শাখা ও উপশাখা ব্যবস্থাপক এবং প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সম্মেলনে ব্যাংকের ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আমানত সংগ্রহ, ঋণ বিতরণ ও আদায়, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল ব্যাংকিং, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, রেমিট্যান্স আহরণ এবং আয় বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।



