ঝিকরগাছা
ভ্যান ছিনিয়ে নিতে চেতনানাশক খাইয়ে হত্যা, লাশ ফেলা হয় কপোতাক্ষে

ছবি: আগামীর সময়
ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন ইখলাস হোসেন (২৯)। পরিবারের ধারণা ছিল অন্য দিনের মতোই ভ্যান চালিয়ে সন্ধ্যায় ঘরে ফিরবেন তিনি। কিন্তু আর ফেরা হয়নি। ভ্যানটি ছিনিয়ে নিতে চেতনানাশক খাইয়ে তাকে হত্যার পর মরদেহে চারটি ইট বেঁধে কপোতাক্ষ নদে ফেলে দেওয়া হয়। নিখোঁজের তিন দিন পর সেই নদ থেকেই উদ্ধার হয় ইখলাসের মরদেহ।
যশোরের ঝিকরগাছায় চৌগাছার অটোভ্যানচালক ইখলাস হোসেন হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দুইজনকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া ভ্যানটি উদ্ধার করে পুলিশ।
আটকরা হলেন—ঝিকরগাছার গঙ্গানন্দপুর এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে মেহেদী হাসান এবং বিষহরি গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে আশরাফুল আলম।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন।
তিনি জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চৌগাছা উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের সানাউল হোসেনের ছেলে ইখলাস ভ্যান নিয়ে ভাড়ায় চালাতে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন পরিবারের পক্ষ থেকে চৌগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
গত ২২ সেপ্টেম্বর সকালে ঝিকরগাছার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের পূর্বপাড়ায় মারুফ মল্লিকের ব্রয়লার ফার্মের পেছনে কপোতাক্ষ নদে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করলে পরিবারের সদস্যরা সেটি ইখলাসের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় ইখলাসের বাবা বাদী হয়ে ঝিকরগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে ঝিকরগাছার ঝাউদিয়া এলাকা থেকে মেহেদী হাসানকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় আশরাফুল আলমকে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন ইখলাস হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। মূলত ভ্যানটি ছিনতাই করে বিক্রি করার উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে ইখলাসকে পান করানো হয়। পরে গলায় ফাঁস দিয়ে ও পানিতে চুবিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এরপর মরদেহ গুম করতে চারটি ইট বেঁধে কপোতাক্ষ নদে ফেলে দেওয়া হয়।
ইখলাস চৌগাছা উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের সানাউল হোসেনের ছেলে। হাসিখুশি এই তরুণের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ আরও জানায়, আটক দুই আসামিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।





