গাংনী
নেশার টাকা না পেয়ে স্ত্রীর আঙুলে কামড়, স্বামী গ্রেপ্তার

অভিযুক্ত স্বামী সুজন আলী
মেহেরপুরের গাংনীতে নেশার টাকা না পেয়ে স্ত্রী মৌসুমী খাতুনের (৩৭) বাম হাতের একটি আঙুলের অর্ধেক অংশ কামড়ে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী সুজন আলীর (৩৮) বিরুদ্ধে।
গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামের বাজারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী স্ত্রী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয় ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে বেতবাড়িয়া গ্রামের মৃত আহসান আলীর মেয়ে মৌসুমী খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে সুজন আলীর বিয়ে হয়। পেশায় বামন্দী বাজারের একজন দর্জি সুজন আলী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাশক্ত।
অভিযোগ উঠেছে, নেশার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। শনিবার রাতে সুজন বাড়িতে এসে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদে জড়ান। স্ত্রী বিবাদ করতে নিষেধ করলে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। একপর্যায়ে তিনি মৌসুমীর বাম হাতের অনামিকা আঙুলে কামড় দিয়ে অর্ধেক অংশ ছিঁড়ে ফেলে এবং গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালান।
এ সময় তাদের ১৮ বছর বয়সী ছেলে তাহিদুল ইসলাম মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও পিটিয়ে ও ডান হাতের কয়েক স্থানে কামড়ে রক্তাক্ত জখম করেন সুজন। পরবর্তীতে তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় আহত মৌসুমী খাতুন বাদী হয়ে গাংনী থানায় উপস্থিত হয়ে স্বামী সুজন আলীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
গাংনী থানার ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, নেশার টাকা না পেয়ে স্ত্রীর আঙুল কামড়ে বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে গাংনী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই সুজন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান।



