স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর রেললাইনে মিলল স্ত্রীর মরদেহ

মঙ্গলবার সকালে পারিবারিক শ্মশানে পাশাপাশি চিতায় তাদের দাহ করা হয়। ছবি: আগামীর সময়
স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে স্ত্রীর। স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করছেন স্বজনরা।
ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে পারিবারিক শ্মশানে পাশাপাশি চিতায় তাদের দাহ করা হয়।
মারা যাওয়া দম্পতি হলেন, নরেন্দ্রনাথ বর্মণ (৮০) ও তার স্ত্রী নিত্য বালা বর্মণ (৭৫)।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত সোমবার রাত ৯টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান হরেন্দ্রনাথ। স্বামীর মৃত্যুর পর রাতভর তার মরদেহের পাশে বসে কাঁদছিলেন নিত্য বালা। বাসায় তখন আত্মীয়স্বজনের ভিড় ছিল। মঙ্গলবার ভোরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে তাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করেন স্বজনরা। সকালে কয়েকজন আত্মীয় বাসার পাশের রেললাইন দিয়ে হাঁটার সময় রেললাইনে তার মরদেহ দেখতে পান। ধারণা করা হচ্ছে, রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের নিচে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়।
মৃত দম্পতির ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ বলেছেন, ‘বাবা অনেক দিন ধরে বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন। সোমবার রাতে তিনি মারা যান। আমার মা বাবাকে অনেক ভালোবাসতেন। তিনি সারারাত বাবার পাশে বসে কেঁদেছিলেন। আমরাও সবাই জেগে ছিলাম। বাসা ভর্তি আত্মীয়স্বজন ছিল। ভোরে মা বাড়ির বাইরে বের হন। পরে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। আত্মীয়স্বজনরা সকালে রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন। তখন তারা মায়ের মরদেহ দেখতে পান।’
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুজনের মরদেহ দাহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রতিবেশী যতীন চন্দ্র বর্মণ বললেন, ‘তাদেরকে কাকা-কাকি বলে সম্বোধন করতাম। ছোটবেলা থেকে দেখেছি, কাকি অনেক ভালোবাসতেন তার স্বামীকে। তাই কাকা মারা যাওয়ার পর শোক সইতে না পেরে কাকিও চলে গেলেন।'
আটোয়ারী থানার ওসি মতিয়ার রহমান জানান, ঘটনার পরপরই পরিবারের লোকজন মরদেহ বাড়িতে নিয়ে সৎকার করেছেন। পরে আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। রেললাইনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনায় রেলওয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
রেললাইনে পাওয়া গেল স্ত্রীর মরদেহ। পরিবারের সদস্যদের দাবী স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে তিনি রেললাইনে গিয়ে শুয়ে কাটা পড়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। স্বামীর প্রতি তার গভীর ভালোবাসা থেকেই এমন ঘটনা ঘটেছে।



