বারহাট্টায় ধান সংগ্রহে অনিয়ম
জমিহীন পরিবারের নামে ১৫০ মণ ধান!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নেত্রকোনার বারহাট্টায় সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত কৃষকেরা ধান দিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়লেও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
চলতি বছর উপজেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৬৫৫ মেট্রিক টন। কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতে ধান সংগ্রহে ধীরগতি থাকায় অনেকেই সরকারি গুদামে ধান দিতে পারেননি। পরে জুলাই-আগস্টে ধান সংগ্রহ শুরু হওয়ায় এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বাউসী ইউনিয়নের দত্তখিলা গ্রামের চম্পা রানী অধিকারী তার বাবার নামে ১৫০ মণ ধান সরকারি গুদামে সরবরাহের তথ্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়দের দাবি, তার ও তার বাবা সুবোধ চন্দ্র অধিকারীর কোনো জমিজমা নেই।
তবে চম্পা রানী বলেন, তার ভাই বাজার থেকে ধান কিনে দিয়েছেন। তিনি অগ্রণী ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ভাইকে দিয়েছিলেন।
বারহাট্টা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিক আহমেদ কমল অভিযোগ করেন, খাদ্যগুদামের ওসিএলএসডি প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান না কিনে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করছেন।
অন্য এক নেতার দাবি, প্রান্তিক কৃষকেরা উৎপাদিত ধানের অর্ধেকও সরকারি গুদামে দিতে পারেননি। এতে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তার।
বাউসী খাদ্যগুদামের ওসিএলএসডি কৃষ্ণা মজুমদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তালিকায় যার নাম রয়েছে, তার ধানই গ্রহণ করা হয়। বস্তা ও জায়গার সংকটের কারণে এবার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
কৃষক তালিকায় অনিয়ম ও সার্ভার জটিলতার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। পরে লিখিত বার্তায় বিষয়টি তদন্ত করে দেখার কথা জানান।
সরকারি ধান সংগ্রহের তালিকা, জমির তথ্য ও সরবরাহের নথি যাচাই করার দায়িত্বে ছিল বারহাট্টা কৃষি অফিস। তারা দায়সারা দায়িত্ব পালনের কারনেই বারহাট্টার কৃষকদের ভোগান্তি কমছে না।




