পাইকগাছা
ভাঙন আতঙ্কে পাইকগাছার নদীপাড়ের মানুষ

ছবি: আগামীর সময়
খুলনার পাইকগাছার হরিঢালী ইউনিয়নের মাহমুদকাটী খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় কপোতাক্ষ নদের ভাঙন ঘিরে উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। নদীর পাড় ভেঙে বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। সামনে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মৌসুম থাকায় ভাঙন আরও তীব্র হলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এ অবস্থায় দ্রুত কার্যকর ও টেকসই ভাঙনরোধের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, নদীভাঙনের আশঙ্কা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে ভাঙন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দেয়। সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বসতভিটা, কৃষিজমি ও জীবিকার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজিব হোসেন জানান, নদীভাঙন নিয়ে আমরা খুবই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। কখন ভাঙন আরও বেড়ে আমাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যায়, সেই চিন্তায় থাকতে হয়। আমরা চাই, দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
স্থানীয় বাসিন্দা সালেহা বেগম তুলে ধরেন, নদীভাঙনের ভয়ে সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় এই ভয় আরও বেড়ে যায়। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে আমাদের ঘরবাড়ি ও জীবিকার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি, দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা নিয়ে এলাকাটি রক্ষা করা হোক।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেরি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই সম্ভাব্য দুর্যোগের আগেই ভাঙনপ্রবণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
তাদের দাবি, শুধু সাময়িক সংস্কার নয়, নদীর স্রোত ও ভাঙনের প্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এলাকাটিকে সুরক্ষিত করা হোক।
এদিকে বুধবার সকালে ভাঙনকবলিত মাহমুদকাটী খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। এ সময় তিনি নদীভাঙনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের উদ্বেগ ও সমস্যার কথা শোনেন। ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য সিদ্ধান্তের কথা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ও পরিবেশগত বিভিন্ন কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। এর ফলে কৃষিজমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে অনেক পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। সামনে ঘূর্ণিঝড় মৌসুম থাকায় সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আগেভাগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। মাহমুদকাটীসহ অন্যান্য ভাঙনকবলিত এলাকাতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংসদ সদস্যের পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেওয়া নির্দেশনার পর দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে কপোতাক্ষ নদের ভাঙন থেকে বসতভিটা, কৃষিজমি ও জনপদ রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের উদ্বেগও কমবে। নদীপাড়ের মানুষের দাবি, সম্ভাব্য দুর্যোগের আগেই ভাঙনরোধে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিয়ে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।




