অবশেষে মাদারীপুরে অনশনরত স্বামীর ঘরে ফিরলেন সেই স্ত্রী

মাদারীপুরে স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে স্ত্রীর বাড়িতে অনশন! এই শিরোনাম নামে আগামীর সময়ে সংবাদ প্রচার হয়েছিল। এরপর টনক নড়ে প্রশাসন ও স্থানীয় সচেতন মহলে। সবার সহযোগিতায় সেই অনুশীলা বাড়ৈ ফিরেছেন স্বামী বিশ্বজিতের ঘরে। গত চার দিন ধরে স্ত্রী অনুশীলার বাড়িতে অনশন করছিলেন বিশ্বজিৎ। এরপর গত রাতে ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের আলিসাকান্দি গ্রাম থেকে স্বামীর নবগ্রামের বাড়িতে ফিরে যান।
২০১২ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ হয় অনুশীলা ও বিশ্বজিতের। এরপর মেসেঞ্জারে আলাপ শুরু হয়। সেখান থেকে প্রেম ও ২০২২ সালে এসে বিয়ে। বিয়ের পূর্বেই অনুশীলার নার্সিং বিষয়ে পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন বিশ্বজিৎ। ২০২২ সালে দুজনে আদালতে বিয়ে করেন। পড়াশোনা শেষ হলে ঢাকার একটি হাসপাতালে চাকরি নেন অনুশীলা। এরপর থেকেই বিশ্বজিৎকে স্বামী হিসেবে মানতে চাইছিলেন না অনুশীলা।
এরপরই অনুশীলার বাড়িতে অনশন শুরু করে বিশ্বজিৎ। বলেছিলেন, 'এ পর্যন্ত আমি অনুশীলাকে পড়াশোনা করার জন্য তার পেছনে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছি। কোর্ট ম্যারেজ করে বিয়েও করেছি। কিন্তু সে যখন চাকরি পেল তখন আমাকে ভুলে গেল।' আগামীর সময়ে সংবাদটি প্রকাশ হলে বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবার ও স্থানীয়দের নিয়ে পারিবারিকভাবে মীমাংসায় বসেন। এরপর অনুশীলা বিশ্বজিৎকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করতে সম্মত হন।
স্ত্রী ঘরে ফিরে আসায় খুশি বিশ্বজিৎ, ‘স্ত্রীকে নিয়ে ঘরে ফিরতে পেরেছি, এটাই আমার বড় পাওয়া। ওকে আমি অনেক ভালোবাসি। আমাদের এই ভালোবাসার বন্ধন যাতে সামনে অটুট থাকে সেই আশীর্বাদ করবেন সবাই।’ অনুশীলা নিজের ভুল বুঝতে পেরে জানালেন, ‘আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। সবাই মিলে বসে ব্যাপারটি সুন্দরভাবে সমাধান করে দিয়েছে।’
এদিকে এ বিষয় অনুশীলার বাবা মনোতোস বাড়ৈ বলেছেন, ‘আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পেরেছি, তাই আমরা সামাজিকভাবে দুই পরিবার এক হয়েছি।’
স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত ছিল। অবশেষে বিষয়টির সমাধান হওয়ায় তারাও হাফ ছেড়ে বাঁচলেন। ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, নবগ্রাম এলাকায় এমন একটি চাঞ্চল্য ঘটনায় স্থানীয়ভাবে দুই পরিবার তাদের ভুল বুঝতে পেরে এখন সমাধান পেয়েছে।
















