দাকোপে পাউবোর ৪০ মিটার বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন

ছবি: আগামীর সময়
খুলনার দাকোপ উপজেলার বটবুনিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ৪০ মিটার ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ভেঙে ঢাকি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
আজ রবিবার সকাল ৮টার দিকে নদীর প্রবল জোয়ারের চাপে ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। পরবর্তীতে নদীতে ভাটা নামলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রচেষ্টায় ব্লক ডাম্পিং ও জিও ব্যাগ দিয়ে ভেতরে পানি প্রবেশ বন্ধ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন যাবত বটবুনিয়া এলাকায় বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছিল। রবিবার সকালে কিছু বুঝে ওঠার আগেই জোয়ারের পানির প্রবল চাপে প্রায় ৪০ মিটার ওয়াপদা বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে অনেকের পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। এলাকার ১৩টি পরিবার এতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ঘরের মালামাল নিয়ে রাস্তার ওপর অবস্থান নিয়েছে। বেশ কয়েকটি পরিবারের অন্যত্র কোনো জায়গা না থাকায় তারা একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
নদীতে ঘর বিলীন হয়ে যাওয়া রিনা সরদার (৫৫) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন, আগে নদীর পাড়ে ঘর ছিল, অনেক আগেই তা নদীর মধ্যে চলে গেছে। আমার স্বামী অসুস্থ, আমরা সরকারের দেওয়া ঘরে এখন বসবাস করি। হঠাৎ সকালে আমার ঘরের সামনে থাকা গোয়ালঘরটি নদী নিয়ে গেছে। আমার বসবাস করার ঘরটাও এখন ঝুঁকিতে আছে, ঘরের পিছন দিয়েই বাঁধ ভেঙেছে। আমার পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই, এখন আমি কী করব, কোথায় যাব? আমার আর কিছু রইল না।
রিনা সরদারের মতোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বটবুনিয়া এলাকার যদুবর সরদার, কৃষ্ণপদ সরদার, প্রশান্ত সরদার, প্রদীপ সরদার, অজিত সরদার, অলকেশ সরদার, গোপাল সরদার, গোবিন্দ সরদার, শেখর সরদার, পরিতোষ সরদার ও নিলু সরদার।
তিলডাঙা ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীন গাজী জানালেন, রবিবার সকালে মুহূর্তের মধ্যে বেড়িবাঁধ ভেঙে বেশ কয়েকটি পরিবার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আপাতত বালুভর্তি জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধ দেওয়ার কাজ করা হয়েছে। তবে ভাঙনকবলিত স্থানটি এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ আমরা বাঁধ আটকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মধুসূদন পাল জানিয়েছেন, ভাঙনকবলিত স্থানে জিও ব্যাগ ও ব্লক ডাম্পিং করা হচ্ছে এবং বালুভর্তি জিও টিউবের মাধ্যমে বাঁধ মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে।




