সুনামগঞ্জে আপত্তির মুখে স্থগিত মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দুটি স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। মাঠ তৈরি, প্রচারসহ সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছিল, খেলোয়াড়রাও ছিলেন পুরোপুরি প্রস্তুত। কিন্তু আগের রাতে জানা গেল, মাঠে গড়াচ্ছে না বল। কারণ ম্যাচটি ছিল ক্লাব দুটির মেয়েদের মধ্যে। আর মেয়েদের ফুটবলে হতে পারে ‘নাচানাচি’, হতে পারে ‘অশ্লীলতা’; যা দেখলে স্থানীয় যুবকদের নষ্ট হতে পারে ‘চরিত্র’। এসব কারণ দেখিয়েই ম্যাচের বিরোধিতা করা হয়েছে, ফলে স্থগিত হয়েছে সেটি।
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় ঘটেছে এসব ঘটনা। গতকাল সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় দিরাই উপজেলা স্টেডিয়ামে হওয়ার কথা ছিল মেয়েদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাব ও দিরাইয়ের স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাবের মেয়েদের মধ্যে হওয়ার কথা ছিল ম্যাচটি। তবে এতে আপত্তি তোলে একটি পক্ষ। যার পরিপ্রেক্ষিতে খেলা স্থগিত হয়ে যায়।
জানা গেল, গত রবিবার রাতে দিরাই পৌর এলাকার চণ্ডীপুরের বাসিন্দা মাওলানা শরিফ উদ্দিনসহ কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকারের সঙ্গে দেখা করেন। তারা মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, বাইরে থেকে মেয়েদের এনে স্টেডিয়ামে খেলাধুলার আয়োজন করা হলে ‘অশ্লীলতা’ হতে পারে।
আয়োজকরা বলছিলেন, স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাবটি ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করে। এলাকার কিশোরীদের নিয়েই এই দল। ২০১৯ সালে এই দলের আমন্ত্রণে দেশের সাতটি জেলার মেয়েদের সাতটি ফুটবল দল দিরাইয়ে এসে খেলে গেছে। স্বপ্নচূড়ার মেয়েরাও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে খেলেছেন। জাতীয়ভাবেও তারা বিভিন্ন খেলায় অংশ নিয়েছেন।
এতদিন পর হঠাৎ করে খেলায় বাধা আসায় বিস্মিত আয়োজক সংগঠন স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি ও কোচ রাকিব আহমেদ ভূঁইয়া। তিনি বললেন, ‘খেলা আয়োজনের অনুমতি চেয়ে পাঁচ দিন আগেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। আমাদের কাছে ওই আবেদনের রিসিভ কপিও রয়েছে।’ তবে আবেদন রিসিভ করলেই সেটি অনুমোদিত বলা যায় না। ইউএনও সনজীব সরকারও অনুমতি দিয়েছিলেন কি না, সে বিষয়টি স্পষ্ট করেননি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বললেন, ‘খেলার আয়োজকরাই ম্যাচটি স্থগিত করেছেন। রবিবার রাতে মহিলা প্রীতি ম্যাচের বিষয়ে মাইকিং করার পর আশপাশের কয়েকটি মাদ্রাসার দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা বাইরে থেকে মহিলা এনে খেলাধুলা করানোর বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। পরে আমি তাদের নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করতে বলেছিলাম।’
দিরাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হুমায়ুন কবির বললেন, স্থানীয়দের মধ্যে খেলা নিয়ে মতবিরোধের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, খেলার কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না। ইউএনও জানিয়েছেন, কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। এরপর তিনি আয়োজকদের ফোন করে খেলাটি পরে আয়োজন করতে বলেছেন।



