দশমিনায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, ফেসবুকে ছড়াল ঘুষের ভিডিও

পটুয়াখালীর দশমিনায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতারা। এর মধ্যে বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নে নিয়োগ পাওয়া ডিলার মো. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে ডিলারশিপ পাওয়ার অভিযোগসংক্রান্ত একটি কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কামাল হোসেন।
এদিকে, দশমিনা সদর ইউনিয়নের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করা হলেও সেখানে একজনকে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার ভিত্তি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে দশমিনা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে দুজন করে সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে মোট ৬১ জন আবেদন করেন। তবে দশমিনা সদর ইউনিয়নের জন্য কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এরপরও প্রকাশিত নিয়োগ তালিকায় রনগোপালদী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মাইদুল ইসলামকে দশমিনা সদর ইউনিয়নের সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে বিজ্ঞপ্তি ছাড়া কীভাবে ওই ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মো. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন এবং সার বিক্রির সময় অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন একই পদে আবেদনকারী বায়েজিত হোসেন। এ বিষয়ে গত ৮ অক্টোবর পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
এর মধ্যে কামাল হোসেনের পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে ডিলারশিপ পাওয়ার অভিযোগসংক্রান্ত একটি কথোপকথনের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কামাল হোসেন বলেন, পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়ে যে ভিডিও ছড়ানো হয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
এদিকে, গত রবিবার সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশের পর উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতারা।
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলহাজ্ব শাহ আলম শানু অভিযোগ করে বলেন, নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে আমরা অবগত নই। বিএনপির কোনো নেতাকর্মী সার ডিলারশিপ পাননি।
গণঅধিকার পরিষদের ঢাকা উত্তরের সহসভাপতি মিজান হাওলাদার প্রশ্ন তুলে বলেন, আমাদের সুপারিশ করা ব্যক্তিরা যদি ডিলারশিপ না পান, তাহলে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কাদের বিবেচনা করা হয়েছে?
অন্যদিকে, দশমিনা সদর ইউনিয়নের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া রনগোপালদী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মাইদুল ইসলাম বলেন, দশমিনা সদর ইউনিয়নে কীভাবে আমি ডিলারশিপ পেয়েছি, তা আমিও জানি না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর আহমেদ বলেন, সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি। তবে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা উপজেলা কৃষি অফিসের নেই। আমাদের দায়িত্ব আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে জেলা পর্যায়ে পাঠানো।
তিনি আরও বলেন, দশমিনা সদর ইউনিয়নে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হলেও সেখানে একজনকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, সার ডিলার নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত উপজেলা পর্যায়ে নেওয়া হয় না। আবেদন যাচাই-বাছাই করে জেলায় পাঠানো হয়। নিয়োগ নিয়ে কিছু অভিযোগ আমরাও পেয়েছি এবং সেগুলো জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ে কেউ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



