ফুলবাড়িয়া
অস্তিত্বহীন ১১৫ শিশুর জন্ম-মৃত্যু সনদ, দুই কর্মকর্তা প্রত্যাহার

সংগৃহীত ছবি
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় অস্তিত্বহীন ১১৫ শিশুর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের অভিযোগে ৮ নম্বর রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে নিবন্ধক ও সহকারী নিবন্ধকের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের পরিবর্তে ৭ নম্বর বাকতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বাকতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক মাখন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইলিয়াস মওদুদী নতুন দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক ‘আগামীর সময়’র প্রথম পাতায় ‘তাদের জন্মই হয়নি, তবু জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু সনদ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে স্থানীয় সরকার বিভাগের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার জেনারেল সামিউল ইসলাম রাহাদের সই করা চিঠিতে রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নিবন্ধক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সহকারী নিবন্ধক হাজেরা খাতুনের নিবন্ধক-সংক্রান্ত ক্ষমতা প্রত্যাহারসহ তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গতকাল বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগ রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন-সংক্রান্ত যাবতীয় ক্ষমতা প্রত্যাহার করেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের চিঠি সূত্রে জানা গেছে, বিডিআরআইএস (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্যব্যবস্থা) সফটওয়্যারে অস্তিত্বহীন ১১৫ শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক ও সহকারী নিবন্ধকের বিরুদ্ধে তিনটি বিষয়ে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার নিবন্ধন-সংক্রান্ত ক্ষমতা প্রত্যাহার করে তাদের স্থলে বাকতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভুয়া নিবন্ধনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো বিডিআরআইএসের তথ্যের শুদ্ধতা নষ্ট করার অভিযোগে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। সরকারি কর্মচারী হিসেবে দায়িত্বে অবহেলা ও অসদাচরণের অভিযোগে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হাজেরা খাতুনের বিরুদ্ধে চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, ২০২৫ সালে ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদে কোনো প্রমাণ ছাড়াই অস্তিত্বহীন ১১৫ শিশুর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পুরো উপজেলায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নিবন্ধক ও সহকারী নিবন্ধকের নিবন্ধন-সংক্রান্ত যাবতীয় ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাকি নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে।




