আড়াই বছরে আমিনুলের সংগ্রহে ২৫০ প্রজাতির ঔষধি গাছ

সুন্দরবন গ্রামের আমিনুল ইসলাম
দিনাজপুর সদর উপজেলার সুন্দরবন গ্রামের আমিনুল ইসলাম (৪৯) প্রায় ১০ বছর যাবৎ নিরাপদ কৃষি নিয়ে কাজ করছেন। কৃষকদের কীটনাশক প্রয়োগ কমিয়ে জৈবসার প্রয়োগে সচেতন করে যাচ্ছেন। এজন্য বাড়ির পাশে গড়ে তুলেছেন সমন্বিত ‘কৃষি ক্লিনিক’। যেখানে তিনি বিনামূল্যে কৃষকদের বিভিন্ন সেবা দিচ্ছেন।
কৃষকদের পরামর্শ দিতে গিয়ে তিনি মানুষের নানা রোগের সম্পর্কেও জানতে শুরু করেন। নিরাপদ কৃষির পাশাপাশি মানুষের অসুস্থতা যাতে ভেষজ উপায়ে নিরাময় হয় সেজন্য ঔষধি গাছ সংগ্রহ শুরু করেন।
২০২৪ সাল থেকে তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে আড়াইশো প্রজাতির ঔষধি গাছ সংগ্রহ করেছেন।
সম্প্রতি তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির ঠিক পিছনেই একটি নার্সারিতে তিনি ঘৃতকাঞ্চন, লজ্জাবতী, কারিপাতা, তুলসী, নীলকণ্ঠ, অ্যালোভেরা, চুইঝাল, সর্পগন্ধা, করমচা, নিম, বহেড়া, হরীতকী, বাসক পাতা, ঈশ্বরমূল, কানাইলতা, নাটার গাছ, কুমারি লতা, থানকুনি, ব্রাক্ষী শাকসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে রেখেছেন।
সেগুলো পরিচর্যার জন্য একটি লোকও রেখেছেন। তিনি প্রতিটি গাছে ছোট ছোট সাইনবোর্ডে নামও লিখে রেখেছেন। সংগৃহীত বিভিন্ন বই-পুস্তক ঘেঁটে এসব ওষধি গাছের গুণাগুণ রপ্ত করেছেন আমিনুল। এসব গাছের পাতা ও কাণ্ড দিয়ে তিনি নিয়মিতভাবে মানুষের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।
আমিনুল ইসলাম আগামীর সময়কে জানান, আমাদের দেশে অনেক ঔষধি গাছ আছে যা আমরা চিনি না। অথচ এসব গাছ বাড়ির ধারে রাস্তার পাশে হয়ে থাকে। আমি মূলত এসব গাছ চিহিৃত করে তা সংগ্রহ করছি।
এর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন ঔষধি গাছ সংগ্রহ করে গবেষণা করছি। যাতে এসব গাছের পাতা ও কাণ্ড থেকে ভেষজ ওষুধ তৈরি করতে পারি।
তার ঔষধি গাছ সংগ্রহের কথা এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে। এলাকার অনেকেই এখন পেটের সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যার তার দ্বারস্থ হচ্ছেন।
দিনাজপুর সদরের ২ নম্বর সুন্দরবন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি মোতাহার ইসলাম জানান, কৃষকদের দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন আমিনুল। এর পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে ঔষধি গাছ সংগ্রহ করছেন। তার এসব গাছ দেখতে অনেক মানুষ তার বাড়িতে ভীড় করে। এটা নিঃসন্দেহে মহৎ উদ্যেগ।



