নোয়াখালীতে চুরির অভিযোগে ‘প্রতিবন্ধী’ যুবককে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৪

প্রতীকী ছবি
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় চুরির অভিযোগে মো. কবির হোসেন (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের বেলালের দোকানের সামনে থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এর আগে একই দিন বিকাল ৪ টার দিকে নোয়ান্নই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকায় তাকে মারধর করা হয়।
নিহত কবির হোসেন উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকার গাইনেগো বাড়ির বাসিন্দা। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, তিনি প্রতিবন্ধী ছিলেন।
স্থানীয়রা জানালেন, সোমবার নোয়াখালী শহরের সোনাপুর পেট্রল পাম্প-সংলগ্ন হাসিব ওয়ার্কশপ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে বলে দাবি করেন ওয়ার্কশপের মালিক মো. হোসেন। চুরির ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সহায়তা চান তিনি। এরপর মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকার এক ব্যক্তি হোসেনকে ফোন করে চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কবিরকে শনাক্ত ও আটকের কথা জানান। খবর পেয়ে হোসেন তার লোকজন নিয়ে সেখানে যান। এ সময় কবিরকে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আহত কবিরকে ইসলামগঞ্জ বাজার থেকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়। পরে বেলালের দোকানের সামনে মরদেহ ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সন্ধ্যায় মরদেহটি উদ্ধার করে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৮ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে কবিরকে আহত অবস্থায় খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখতে দেখা যায়। ভিডিওতে তাকে টাকা চুরির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করতেও দেখা গেছে। মঙ্গলবার বিকালে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
সুধারাম থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বললেন, চুরির অভিযোগে ওই যুবককে মারধর করলে তার মৃত্যু হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তিন থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



