গুরুদাসপুরে ‘কালো জাদুর’ অপবাদে ৩ নারীকে জুতার মালা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নাটোরের গুরুদাসপুরে ‘কালো জাদু’ করার অভিযোগে এক পরিবারের তিন নারীকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানোর ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় গাড়িষাপাড়া এলাকার এ ঘটনায় উপজেলা যুবদল সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়া নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
তবে জিয়া এ ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বললেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হাত ভেঙে যাওয়ায় ১৫ দিন ধরে আমি শয্যাশায়ী।
ভুক্তভোগী নারীদের মধ্যে একজনের বয়স ৬০ বছর, আরেকজন তার ৩০ বছর বয়সী মেয়ে ও ১৫ বছর বয়সী নাতনি। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা প্রবাসে থাকায় বাড়িতে মূলত তারাই থাকেন।
তাদের অভিযোগ, গত সোমবার দুপুরে জিয়াউর রহমান জিয়া ১৫ থেকে ২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়িতে যান। এরপর তাদের চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে জিয়ার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রেখে তাদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। সন্ধ্যায় তাদের গলায় জুতার মালা পরিয়ে প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরানো হয়। পরে সাদা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে অন্যত্র পাঠিয়ে দিয়েছে তার পরিবার। অন্য দুই নারী বাড়িতে থাকলেও লোকলজ্জা ও নিরাপত্তাহীনতায় বাইরে বের হতে পারছেন না বলে দাবি করেছেন।
৬০ বছর বয়সী ওই নারী বলেছেন, ‘আমার মেয়ে কোনো অন্যায় করলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারত। কিন্তু বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে গলায় জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর অধিকার কারও নেই। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
তার মেয়ে জানিয়েছেন, গত মাসের ২২ তারিখে জিয়া আমাদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন। সোমবার আবার দলবল নিয়ে বাড়িতে গিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। আমার স্বামী প্রবাসে থাকেন। সাত মাস আগে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন এবং মেয়ের স্বামীও বিদেশে। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাদের প্রকাশ্যে চরমভাবে অপমান করা হলেও ভয়ে এলাকার কেউ এগিয়ে আসেননি।
জিয়ার বড় ভাই ইয়ারুল সরদার বললেন, তার মেয়েকে বিয়ে-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ‘কালো জাদু’ করা হয়েছে। মেয়ের চিকিৎসায় তাদের অন্তত ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলেও দাবি তার। বিভিন্ন কবিরাজ ও মাওলানার কাছ থেকে তারা ‘কালো জাদুর’ বিষয়টি জেনেছেন। তিনি আরও বললেন, বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ধরে এনে জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘুরিয়েছে।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান আগামীর সময়কে বলেছেন, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে রাতে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। সকালে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তদন্ত করে এসেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার থেকে থানায় কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



