ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি

সংগৃহীত ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে এক নবজাতক চুরির অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা ৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে এক নারীকে নবজাতককে কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।
ঘটনার পর নবজাতক উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে। চুরি হওয়া নবজাতকটি বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের চান্দুরা গ্রামের রাজমিস্ত্রি শামীমের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে প্রসবজনিত কারণে মরিয়মকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরদিন সকালে চিকিৎসক ইশরাত হোমায়েরা নীলার তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অ্যানেস্থেসিয়া দেন চিকিৎসক তৌহিদ।
মরিয়মের বাবার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার চানপুর এলাকায়। তার মা মমতাজ বেগম মেয়ের সঙ্গে হাসপাতালে ছিলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রথম সন্তানের মুখ দেখলেও বাড়ি নিয়ে যাওয়ার আগেই নবজাতক চুরি যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে পরিবারটি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মরিয়মের মা মমতাজ বেগম বলেন, মরিয়মকে ভুলভাল বুঝিয়ে আমার নাতিকে চুরি করে নিয়ে গেছে। বিয়ের চার বছর পর নাতির মুখ দেখেছি। কিন্তু নাতিকে ধরে রাখার ভাগ্য হলো না। এখন কী হবে, কিছুই বুঝতে পারছি না।
হাসপাতালের গাইনি বিভাগের নার্সিং ইনচার্জ খাদিজা আক্তার সুবর্ণা জানান, ঘটনার সময় মিডওয়াইফ নার্স নুসরাত জাহান এ্যানি, নার্স ফাতেমা আক্তার ও সাদিয়া খানম দায়িত্বে ছিলেন। বিষয়টি জানার পর তারা দ্রুত সেখানে যান।
তিনি বলেন, হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি থাকায় সবসময় কে কোন শিশুকে কোলে নিচ্ছে, তা নজরে রাখা সম্ভব হয় না। তবে রোগীদের বারবার সতর্ক করে শিশুদের নিরাপদে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শাহিন ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নবজাতক উদ্ধারে পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে ঘটনার পরপরই হাসপাতালে ছুটে যান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম। তিনি বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে এসে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। নবজাতক উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিব উর রাজা বলেন, ঘটনার পরপরই হাসপাতালে এসেছি। সদর থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পুলিশের একাধিক টিম সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নবজাতক উদ্ধারে কাজ করছে।
সিসিটিভি ফুটেজে নবজাতককে কোলে নিয়ে এক নারীকে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যাওয়ায় তাকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে নবজাতককে উদ্ধারে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর হাসপাতাল জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সন্তানকে ফিরে পেতে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন নবজাতকের স্বজনরা।




