টিকটকে পরিচয়, বিয়ের দাবিতে প্রেমিক-প্রেমিকার আত্মহনন

ছবি: আগামীর সময়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পরিচয়, এরপর প্রেমের সম্পর্ক। সেই সম্পর্ক বিয়েতে গড়াতে চাইলেও পরিবারের আপত্তিতে তৈরি হয় টানাপড়েন। এরই মধ্যে জমিতে ব্যবহারের জন্য রাখা বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রেমিক-প্রেমিকা। গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতরা হলেন সাঘাটা উপজেলার পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের আজাদুল ইসলামের ছেলে আল আমিন মিয়া (১৮) এবং পদুমশহর ইউনিয়নের জোরডোবা গ্রামের ফরহাদ মিয়ার স্ত্রী ও দক্ষিণ শ্যামপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে তাসলিমা আক্তার তাজমিন (২৫)। তাজমিন এক সন্তানের জননী ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, টিকটকের মাধ্যমে আল আমিন ও তাজমিনের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আল আমিনের চেয়ে বয়সে বড় হওয়া, তাজমিনের বিবাহিত জীবন ও সন্তান থাকার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছিল।
গত রবিবার বিয়ের দাবি নিয়ে তাজমিন আল আমিনের বাড়িতে অবস্থান নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে আল আমিনের পরিবারের সদস্যরা তাদের সম্পর্ক মেনে নিতে রাজি হননি। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে অস্বস্তি ও টানাপড়েন তৈরি হয়।
এর পরদিন সোমবার রাতে আল আমিন ও তাজমিন একসঙ্গে জমিতে ব্যবহারের জন্য রাখা গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি টের পেয়ে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অল্প সময়ের ব্যবধানে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার পর আল আমিনের মরদেহ স্বজনেরা হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যান বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে তাজমিনের মরদেহ হাসপাতালে ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে মঙ্গলবার পুলিশ পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের বাড়ি থেকে আল আমিনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হুদা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ আল আমিনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি গাইবান্ধা মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




