নিখোঁজের ৭ দিন পর নারীর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার নুরুল আমিন
নেত্রকোনায় নিখোঁজের সাত দিন পর নাজু আক্তার খাতুন (৩৪) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্বামী নুরুল আমিনকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজুকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন নুরুল। পারিবারিক বিরোধ ও ভরণপোষণের টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আজ শুক্রবার বিকালে নেত্রকোনা সদরের মৌগাতী ইউনিয়নের নগুয়া কুশলগাঁও এলাকার ঢুকিয়ালী নদীর পাড় থেকে মাটিচাপা অবস্থায় নাজুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত নাজু আক্তার সদর উপজেলার কাটলী এলাকার ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে। গ্রেপ্তার নুরুল আমিন একই উপজেলার মৌগাতী ইউনিয়নের নগুয়া কুশলগাঁও গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নাজু নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই শুভ গত ২২ সেপ্টেম্বর নেত্রকোনা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে নুরুল আমিনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নাজু ও নুরুল আমিনের প্রায় ১৪ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের ছয় বছরের একটি ছেলে ও আড়াই বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। দাম্পত্য কলহের জেরে তাদের মধ্যে একাধিকবার তালাক ও পুনরায় বিয়ের ঘটনা ঘটে।
নাজু তার স্বামীর বিরুদ্ধে ভরণপোষণের মামলা করেছিলেন। এ ছাড়া ধর্ষণের অভিযোগে করা আরেকটি মামলা বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন। ওই মামলার মীমাংসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন নুরুল আমিন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে খাটপুড়া ব্রিজসংলগ্ন শ্মশানের পাশে টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে আবারও বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নুরুল আমিন নাজুর বুকে ঘুষি মারেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে কাঁধে করে পাশের শ্মশানঘাটে নিয়ে যান নুরুল। সেখানে স্ত্রীর ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে নাজুকে হত্যা করেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন তিনি।
পুলিশের তথ্যমতে, হত্যার পর তৃষ্ণার্ত হয়ে পাশের ধানখেত থেকে পানি পান করেন নুরুল। পরে মরদেহ কাধে করে নিজের বাড়ির পাশের ঢুকিয়ালী নদীর পাড়ে নিয়ে যান। সেখান থেকে কোদাল এনে গর্ত করে মরদেহটি মাটিচাপা দেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি।
আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটির নিচে পুঁতে রাখা মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, নিখোঁজের ঘটনায় করা জিডির তদন্ত করতে গিয়ে নুরুল আমিনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিষয়ে তথ্য পেয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।



