Agamir Somoy E-Paper
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
শাহনাজের হাত ধরে স্বাবলম্বী ৭০০ নারী
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় সারা দেশ

বাঁশের ফাঁকে ফাঁকে জীবনের গল্প, ৭৬-এও থামেনি গীরেনের হাত

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি
agamir somoy
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৫৩
বাঁশের ফাঁকে ফাঁকে জীবনের গল্প, ৭৬-এও থামেনি গীরেনের হাত

ছবি: আগামীর সময়

সকালের শুরুটা অন্য সবার মতোই। তবে গীরেন বৈরাগীর সকাল কাটে একটু ভিন্নভাবে। হাতে ধারালো বঁটি, পাশে কাঁচা বাঁশ। প্রথমে বাঁশ কাটা, এরপর চেঁছে পাতলা করা। তারপর সেই বাঁশের ফালি নিপুণ হাতে বুনে তৈরি করেন নানা ধরনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী। বয়সের ভারে শরীর আগের মতো সায় না দিলেও হাত দুটো এখনও ভুলে যায়নি পুরোনো কারিগরি।

গীরেন বৈরাগীর বয়স ৭৬ বছর। বগুড়ার দুপচাঁচিয়া পৌরসভার পালপাড়ার বাসিন্দা তিনি। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাঁশের কাজ করে জীবিকা চালিয়ে আসছেন। ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে যে কাজের সঙ্গে পরিচয়, সময়ের সঙ্গে সেটিই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের অন্যতম অবলম্বন।

বাঁশ তাঁর কাছে শুধু একটি কাঁচামাল নয়, জীবনের সঙ্গীও। তাঁর হাতে একটি সাধারণ বাঁশ কখনো হয়ে ওঠে মই, কখনো চাটাই, ঝুড়ি, ডালা, কুলা কিংবা চালুনি। মাছ ধরার চাঁই ও বিভিন্ন ধরনের ফাঁদও তৈরি করেন তিনি। বাঁশের পাশাপাশি তাল ও ডাবগাছের পাতা, খাগড়াসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি করেন ঝাড়ু।

একসময় গ্রামবাংলার প্রায় প্রতিটি ঘরেই দেখা যেত বাঁশের তৈরি এসব সামগ্রী। রান্নাঘর থেকে শুরু করে কৃষিকাজ, মাছ ধরা কিংবা ঘরের নিত্যপ্রয়োজনে বাঁশের তৈরি পণ্যের ব্যবহার ছিল ব্যাপক। কিন্তু সময়ের সঙ্গে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ও বিভিন্ন আধুনিক সামগ্রীর ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বাঁশের তৈরি পণ্যের চাহিদা অনেকটাই কমেছে।

এর প্রভাব পড়েছে বাঁশের কারিগরদের জীবনেও। অনেকে পেশা বদল করেছেন। কিন্তু গীরেন বৈরাগী এখনও ধরে রেখেছেন তাঁর পুরোনো পেশা। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি তাঁর তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী দূরের ক্রেতাদের কাছেও যায়। ক্ষুদ্র ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা তাঁর কাছ থেকে পণ্য কিনে নিয়ে যান।

বয়স বাড়ার সঙ্গে কাজের গতি কমেছে। আগে টানা অনেকক্ষণ কাজ করতে পারলেও এখন অল্প পরিশ্রমেই শরীরে ক্লান্তি আসে। তবুও কাজ ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবেন না গীরেন। দীর্ঘদিনের এই পেশা এখন তাঁর জীবনেরই অংশ হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন

অবৈধ যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরির দায়ে এনসিপি নেতার কারাদণ্ড

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গীরেনের একমাত্র ছেলে কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। স্ত্রী ও কন্যাসহ পরিবারের সদস্য ছয়জন। বাঁশের কাজ থেকে পাওয়া আয় দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি নামসংকীর্তন করেও কিছু পারিশ্রমিক পান তিনি। দুই উৎস থেকে পাওয়া সামান্য আয় দিয়েই পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করেন।

আয় খুব বেশি নয়, জীবনও স্বচ্ছন্দ নয়। কিন্তু অন্যের কাছে হাত পেতে থাকার চেয়ে নিজের শ্রমে উপার্জন করাকেই বেশি সম্মানের মনে করেন গীরেন। নিজের হাতে তৈরি একটি সামগ্রী যখন কোনো মানুষের প্রয়োজন মেটায়, তখন সেটিই তাঁকে নতুন করে কাজের উৎসাহ দেয়।

গীরেনের মতো কারিগরদের হাত ধরে গ্রামবাংলার বাঁশশিল্পের পুরোনো ঐতিহ্য এখনও টিকে আছে। আধুনিকতার চাপে এই শিল্পের পরিসর ছোট হয়ে এলেও তাঁদের দক্ষতা ও শ্রমের কারণে হারিয়ে যায়নি বহু বছরের সেই কারুশিল্প।

৭৬ বছরের গীরেন বৈরাগীর জীবন তাই শুধু একজন প্রবীণ কারিগরের জীবনের গল্প নয়। এটি শ্রমের প্রতি ভালোবাসা, আত্মমর্যাদা এবং হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ ঐতিহ্যকে আঁকড়ে থাকার গল্প। বয়স তাঁর শরীরকে ধীর করেছে, কিন্তু কাজের প্রতি আগ্রহকে থামাতে পারেনি। বাঁশের ফালি বুনতে বুনতেই তিনি এখনও নিজের জীবনের গল্প লিখে চলেছেন।


    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন: