অভিযোগের পরও সার ডিলার নিয়োগ, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়নে একই পরিবারের সদস্যের নামে আগে থেকেই বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সার ডিলারশিপ রয়েছে। এর মধ্যে পরিবারের আরেক সদস্যের নামে নতুন ডিলারশিপের আবেদন করা হয়। ওই আবেদনকারীর বিরুদ্ধে সরকারি সহায়তার সার বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
এসব বিষয় উল্লেখ করে আবেদন বাতিলের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগও দেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। তবে সব অভিযোগের পরও নতুন সার ডিলার নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে আবেদনকারীর নাম এসেছে। এ ঘটনায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও যাচাই-বাছাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সাহতা ইউনিয়নে মাইন উদ্দিন ট্রেডার্স নামে আগে থেকেই একটি বিএডিসি সার ডিলারশিপ রয়েছে। একই পরিবারের সদস্য মোমিন মিয়ার নামে হেলুচিয়া বাজারের মেসার্স মোমিন ট্রেডার্সের জন্য নতুন ডিলারশিপের আবেদন করা হয়।
এ ছাড়া গত ২০ আগস্ট বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা এমওপি সার দোকানে মজুদ রেখে বিক্রির অভিযোগে মোমিন মিয়াকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযোগকারী আনোয়ার হোসেনের দাবি, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আবেদনটি যথাযথভাবে যাচাই করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। এ কারণে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগ দায়েরের পরও নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে মোমিন ট্রেডার্সের নাম আসায় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মোমিন ট্রেডার্সের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা নিয়ম মেনেই আবেদন করেছেন। একই পরিবারের সদস্য হলেও তারা আলাদা বসবাস করেন। মোমিনের বড় ভাই মহিম উদ্দিনের দাবি, তাদের বাবার নামে ডিলারশিপ থাকলেও মায়ের নামে কোনো ডিলারশিপ নেই। তবে মোমিনের আবেদনে মহিম উদ্দিনের মোবাইল নম্বর যুক্ত করা হয়েছে।
বারহাট্টা উপজেলা সার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক পাওয়ায় আবেদনকারীর নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে পাঠানো হয়েছে। তবে কোনো তথ্য গোপন করা হয়ে থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




