ময়মনসিংহ সরকারি আইএইচটিতে সংকটের পাহাড়
- জনবল নিয়োগ হয়নি
- নেই পর্যাপ্ত চেয়ার-টেবিল
- আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব
- অস্থায়ী কর্মচারীদের বেতন বন্ধ

সংগৃহীত ছবি
ময়মনসিংহে চিকিৎসা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ময়মনসিংহ সরকারি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি)। নগরীর মাসকান্দা এলাকায় বিশাল এলাকা জুড়ে দৃষ্টিনন্দন ভবন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয় তিন বছর আগে। কিন্তু এখনো এখানে স্থায়ী জনবল নিয়োগ হয়নি। ডেপুটেশনে আসা চিকিৎসকরা এখানে পাঠ দেন। আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই বললেই চলে। যেগুলো আছে সেগুলোও ইনস্ট্রাক্টরের অভাবে বাক্সবন্দি। অস্থায়ী কর্মচারীদের বেতনও বন্ধ গত নভেম্বর থেকে। শিক্ষার্থীর অনুপাতে চেয়ার-টেবিলও নেই শ্রেণিকক্ষগুলোয়। সম্ভাবনার এ প্রতিষ্ঠানটিতে ভর করেছে সংকটের পাহাড়।
ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দা এলাকায় ২০২২ সালে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজ শেষ হয়। ক্যাম্পাসে একটি চারতলা অ্যাকাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, পুরুষ ও নারী শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল, অধ্যক্ষ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে।
এখানে ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি ও পাঠ কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে ল্যাবরেটরি টেকনোলজি ও রেজিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে পাঠ কার্যক্রম চালু হয়। প্রতি বর্ষে একেকটি বিভাগে ২৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। কোর্সের মেয়াদ চার বছর। বর্তমানে তিনটি ব্যাচে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪৮।
জানা গেছে, জনবল নিয়োগ না হওয়ায় ছয় চিকিৎসক এখানে ডেপুটেশনে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এখানে অফিস সহকারী, নৈশপ্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ চারজন আছেন। তবে তারাও গত নভেম্বর থেকে বেতন পাচ্ছেন না। যন্ত্রপাতি এবং টেকনিশিয়ান না থাকায় শিক্ষার্থীরা কারিগরি বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে পারছেন না। চেয়ার সংকটের কারণে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে কিছু শিক্ষার্থীকে দাঁড়িয়েও থাকতে হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষগুলোয় চেয়ারের স্বল্পতা। প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ না হওয়ায় অনেক কক্ষের দরজা বন্ধ। কিছু যন্ত্রপাতিও বাক্সবন্দি।
সংশ্লিষ্টরা জানালেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের অংশ হিসেবেই সরকারিভাবে এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমান সময়ে হেলথ টেকনোলজিস্টদের চাহিদা ব্যাপক। সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারিতেও তাদের চাকরির সুযোগ অনেক। সুযোগ আছে বিদেশে গিয়েও ভালো চাকরি করার। এ ছাড়া দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মানোন্নয়নেও তাদের বেশ চাহিদা রয়েছে। কিন্তু তারা মানসম্মত শিক্ষা না পেলে বিষয়টি হবে দুঃখজনক।
ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম ভট্টাচার্য জানালেন, জনবল নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। জনবল নিয়োগ হলে ও যন্ত্রপাতি এলে প্রতিষ্ঠানের মান অনেক বেড়ে যাবে। বিভিন্ন সংকট প্রসঙ্গে তিনি জানালেন, তারা সবাই মিলে সংকট মোকাবিলা করে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ধরে রেখেছেন।



