বিদ্যালয়ে শিক্ষক দম্পতির মারামারি, বিভাগীয় মামলা-বদলি

আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকার মারামারির ঘটনায় বিভাগীয় মামলা হয়েছে।
এ ঘটনায় সহকারী শিক্ষিকা আছমা খাতুনকে একই উপজেলার অন্য একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
আজ বৃহস্পতিবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম আছমা খাতুনকে কাহালগাঁও দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদে বদলি করেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।
গত ৫ অক্টোবর আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে শিক্ষক দম্পতির মারামারির ঘটনা ঘটে।
গত মঙ্গলবার ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
ঘটনার পর উপজেলা শিক্ষা অফিস তদন্ত করে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. ইকবাল হোসেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে আছমা বেগম এবং ২০১১ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে আফজাল হোসেন আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন।
এর আগে তারা অন্য বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। ২০০৪ সালে তাদের বিয়ে হয়। প্রধান শিক্ষকের বাড়ির পাশেই বিদ্যালয় হওয়ায় তারা দুজনই সেখানে বদলি হয়ে আসেন।
দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে তারা আলাদা থাকেন। এ নিয়ে বিদ্যালয়ে মাঝেমধ্যেই প্রকাশ্যে ঝগড়ায় জড়াতেন তারা। তাদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ ছিলেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। শিক্ষক দম্পতির বিরোধের কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে চান না বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে। ফলে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে।
বিদ্যালয়ের কাগজপত্র অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯০ জন। তবে বাস্তবে এর অর্ধেক শিক্ষার্থীও নেই বলে জানা গেছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বিভাগীয় মামলা হওয়ার পর সহকারী শিক্ষিকাকে কাহালগাঁও দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে উপপরিচালক স্যার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেবেন।’



