বান্দরবান
অফিসে তালা দিয়ে ডেপুটি সিভিল সার্জনকে অবরুদ্ধ, বেতন-ভাতার বিলে সই

ছবি: আগামীর সময়
বান্দরবান সদর হাসপাতালের দুই মাসের বকেয়া বেতন-ভাতার বিলে স্বাক্ষর আদায়ের জন্য ডেপুটি সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে তালা দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ কর্মচারীরা।
আজ সোমবার এ ঘটনা ঘটে। পরে বেতন-ভাতার বিলে স্বাক্ষর করার পর দুপুর ১টার দিকে অবরোধ তুলে নেন কর্মচারীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সদর হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতালের কর্মচারী নেতা ও হিসাবরক্ষক সুভাষ দাশ জানিয়েছেন, সিভিল সার্জনের পদায়নসংক্রান্ত জটিলতার কারণে তারা গত দুই মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছিলেন না। চলতি মাসে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রবারণা পূর্ণিমা অনুষ্ঠিত হবে। এমন পরিস্থিতিতে দুই মাসের বেতন-ভাতা আটকে থাকায় কর্মচারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
সুভাষ দাশের ভাষ্য, গত ৮ অক্টোবর কর্তৃপক্ষ ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার দেবনাথকে আয়ন-ব্যয়ন (ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং) কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা দেয়। তবে বেতন-ভাতার বিলে তিনি স্বাক্ষর না করায় কর্মচারীরা সমস্যায় পড়েন।
এ বিষয়ে ডা. দিলীপ কুমার দেবনাথ জানিয়েছেন, আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের লিখিত ক্ষমতাপত্র তিনি হাতে পাননি। এ কারণে বেতন-ভাতার বিলে স্বাক্ষর করতে পারছিলেন না।
পরে সুভাষ দাশ লিখিত ক্ষমতাপত্রের একটি কপি দেখালে প্রায় তিন ঘণ্টা পর সমস্যার সমাধান হয়। এরপর বেতন-ভাতার বিলে স্বাক্ষর করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন এবং কর্মচারীরা অবরোধ তুলে নেন।
বান্দরবান জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্র জানায়, গত জুলাই মাসে বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন চৌধুরীকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর এক আদেশে তাকে আবার বান্দরবানের সিভিল সার্জন পদে চলতি দায়িত্বে বদলি করা হয়।
তবে ডা. শাহীন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওষুধ কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ তার যোগদানপত্র গ্রহণ করেনি। ১৯৮৯ সালের পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন অনুযায়ী, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে ন্যস্ত।



