সাটুরিয়া
আগাম শীতকালীন সবজি চাষে কৃষক হাসে

ছবি: আগামীর সময়
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। অল্প সময়ে কম খরচে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটো, শিম, মুলা, লাউ, পালং শাকসহ শীতকালীন বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করে লাভবান হওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে।
মৌসুমের তুলনায় আগাম সবজিতে দাম বেশি পাওয়ায় প্রতিবছর সাটুরিয়ায় বাড়ছে আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ।
সাটুরিয়া উপজেলায় উৎপাদন করা শাক সবজির আলাদা খ্যাতি রয়েছে সারা দেশে। উপজেলার সবজির গুণগত মান ভালো ও পুষ্টিকর হওয়ায় সারাদেশেই এখানকার সবজির চাহিদা রয়েছে। উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষি জমি জুড়ে এখন নানা সবজির সমারহ। সিম, ফুলকপিসহ হরেক রকম শীতকালীন সবজিতে হেসে উঠেছে ফসলের মাঠ।
সাটুরিয়ার উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানায়, সাটুরিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৯৫০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু আগাম শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে ৯৯১ হেক্টর। এ ছাড়া উপজেলায় ২৭ হেক্টর জমিতে ধনিয়া পাতা চাষ করেছে কৃষকরা। প্রতি বছর উপজেলার কৃষকরা লাভবান হওয়ায় আগাম শীত কালীন সবজি চাষ বেড়েছে।
উপজেলার ফুকুরহাটি, জান্না, তিল্লী এলাকার সবজি চাষিরা বলেন, তারা সারা বছরই বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করে থাকে। শীতকালীন আগাম জাতের সবজির মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, পালং শাক ও ধনেপাতার আবাদ করা হয়। বাজারে প্রতিটি সবজিরই ব্যাপক চাহিদার সঙ্গে দামও ভালো পাওয়া যায়। বিক্রির জন্য এখন আর বাজারে যেতে হয় না। ব্যবসায়ীরা মাঠ থেকেই সবজি কিনে নিয়ে যায় তাই লাভও তুলানামূলক বেশি হয়।
উপজেলার চামারখাই এলাকার নায়েব আলী (৫৫) জানালেন, তিনি ৬০ শতাংশ জমিতে ফুল কপির আবাদ করেছেন। গত ১৫ বছর ধরে তিনি আগাম ফুলকপির আবাদ করেন। আগাম চাষে লাভ বেশি দাম পাওয়া যায় ভালো। এক সপ্তাহ ধরে তিনি বাজারে ফুলকপি বিক্রি করছেন ৮০\১০০ টাকা কেজি ধরে।
উপজেলার দরগ্রাম রৌহা এলাকার কৃষক নয়া মিয়া (৫৫) বলেন, এ বছর ১৫ শতাংশ জমিতে তিনি বেগুনের আবাদ করেছে। এ পর্যন্ত দুই বারে প্রায় ৬ মন বেগুন তুলে আড়তে নিয়ে ১৭৫০ টাকা মন বিক্রি করেছেন। আরও তিন থেকে চার বার বেগুন তুলতে পারবেন। অন্য ফসলের তুলনায় সবজিতে লাভ বেশি হওয়ায় তিনি সবজি আবাদ করছেন।
ফুকুরহাটি গ্রামের কৃষক চান মিয়া (৬৫) বলেন, এ বছর ৮০ শতাংশ জমিতে তিনি আগাম ফুলকপির আবাদ করেছেন। প্রতিবছর তিনি আগাম কপির চাষাবাদ করেন। তার এলাকার সকল কৃষক এখন লাভবান হওয়ায় আগাম শীত কালীন সবজি চাষ করে থাকেন। আর সবজি বিক্রির জন্য এখন আর হাট বাজারে নিয়ে যেতে হয় না। ঢাকার পাইকাররা ফসলের মাঠ থেকে সবজি ক্ষেত ধরে কিনে নিয়ে যায়। তাই বিক্রি ও সবজি মাঠ থেকে তোলার জন্য কৃষকের বাড়তি ঝামেলা পহাতে হয় না।
উপজেলার চর তিল্লী গ্রামের আতোয়ার হোসেন (৪০) জানালেন, তিনি ৩০ শতাংশ জায়গায় কড়লার আবাদ করেছেন। এর মধ্যে দুইবার কড়লা তুলে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে জমির পাশে কড়লা তুলে রাখলে ঢাকার পাইকাররা ১৬০০ টাকা মণ দামে কড়লা জমি থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। তার চাষ করা কড়লা আরও মাস খানেক তুলে তুলে বিক্রি করা যাবে। কড়লা বিক্রি করে যে লাভ হচ্ছে অন্য ফসল চাষ করলে লাভ কম হতো।
সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার তানিয়া তাবাসসুম বলেন, সাটুরিয়া সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত একটি উপজেলা। আমরা সব সময় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের আগাম শীতকালীন সবজি চাষের পরামর্শ দিয়ে থাকি। কারণ আগাম শীতকালীন যে সবজিটা হয় বিশেষ করে বেগুন, ফুলকপি, শশা, শীমসহ অন্যান্য সবজি সিজনের সময় যে দামটা পায় আগাম চাষে তার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করার কৃষক অনেক বেশি লাভবান হয়ে থাকে।



