গাইবান্ধা
‘এক টাকার শিক্ষক’ লুৎফুর রহমান পেলেন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

সংগৃহীত ছবি
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি পড়িয়ে যাচ্ছেন। বিনিময়ে নেন মাত্র এক টাকা। গাইবান্ধার সেই লুৎফুর রহমানের হাতে আজ উঠল রাষ্ট্রের সম্মাননা।
আজ সোমবার বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ছিল সেই অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ হাতে তুলে দেন সম্মাননা। যে মানুষটি সারা জীবন নীরবে আলো ছড়িয়েছেন, তিনি দাঁড়ালেন দেশের সর্বোচ্চ মঞ্চে।
গত ২ আগস্ট দৈনিক আগামীর সময়-এ ১ টাকার মাস্টার শিরোনামে একটি ভিডিও প্রতিবেদন ও আগামীর সময়-এর নিয়মিত প্রকাশিত ধন্যবাদে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
১৯৭৪ সাল থেকে লুৎফুর রহমান পড়াচ্ছেন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের। অভাবের কারণে যারা স্কুলের দরজা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না, তাদের কাছেই তিনি পৌঁছে গেছেন বইখাতা নিয়ে। নিজের উদ্যোগেই শুরু করেছিলেন এই পথচলা। ধীরে ধীরে গাইবান্ধার মানুষ তাকে চিনতে শুরু করে 'এক টাকার শিক্ষক' নামে।
আশ্চর্যের বিষয়, তিনি কোনো স্কুল বা কলেজের শিক্ষক নন। সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের বেতনও পাননি কখনো। তবু তার কাছে পড়েছে এক-দুই নয়, বহু প্রজন্মের শিক্ষার্থী। তার এক টাকা আসলে পারিশ্রমিক ছিল না। সেটা ছিল এই বিশ্বাস যে শিক্ষা কারও কাছে বোঝা হয়ে ওঠা উচিত নয়।
এবার সারা দেশ থেকে ১০২ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি, বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা, কৃষি ও প্রকৌশল শিক্ষার শিক্ষকরা। প্রত্যেকে পেয়েছেন ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র। লুৎফুর রহমান সম্মানিত হয়েছেন বিশেষ ক্যাটাগরিতে।
একই ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পেয়েছেন আরও দুজন। একজন 'রমণীকান্ত পাঠশালা'র রমণীকান্ত বেপারী। অন্যজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষায় কাজ করা প্রয়াস ইনস্টিটিউট অব স্পেশাল এডুকেশনের সহকারী শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হোসেন খান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
উপস্থিত ছিলেন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ সংশ্লিষ্টরা।




