জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল
২৫০ শয্যায় ৮০৪ রোগী, তিনগুণ চাপ

ছবি: আগামীর সময়
জামালপুর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে অনুমোদিত শয্যার তিন গুণের বেশি রোগী ভর্তি থাকায় মেঝে, করিডোর ও বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ৮২টি অনুমোদিত চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৫২ জন। অতিরিক্ত রোগীর চাপের সঙ্গে জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট এবং বিকল যন্ত্রপাতির কারণে সেবা ব্যাহত হচ্ছে। দক্ষ জনবলের অভাবে কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত আইসিইউও কার্যকর নয়।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮০৪। এর মধ্যে ৫০ শয্যার মেডিসিন ওয়ার্ডে ২৭৩ জন, ২৪ শয্যার শিশু ও শিশু স্ক্যানো ওয়ার্ডে ১৭৭ জন, ৪৮ শয্যার সার্জারি ওয়ার্ডে ১৪১ জনসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন।
হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্ত ৪৬ জনও চিকিৎসাধীন। একই দিনে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ হাজার ৫৬২ জন। পৃথক ওয়ার্ড না থাকায় ডেঙ্গু রোগীদেরও সাধারণ রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, অধিকাংশ ওয়ার্ডে শয্যা খালি নেই। শয্যা না পেয়ে রোগীদের করিডোর ও মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। বৃষ্টির পানি ঢুকে এসব স্থানে থাকা রোগীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জের আব্দুল্লাহ বলেন, শয্যা না পেয়ে তিনি করিডোরে আছেন। বৃষ্টির পানিতে তার বিছানাও ভিজে গেছে।
ডেঙ্গু রোগী রাব্বি ও আব্দুল হালিম জানান, পৃথক ওয়ার্ড না থাকায় তাদের সাধারণ রোগীদের সঙ্গে থাকতে হচ্ছে।
সহকারী পরিচালক ডা. মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘২৫০ শয্যার হাসপাতালে মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। হাসপাতালে ৭-৮ শত রোগী ভর্তি থাকে। আবাসন সমস্যা কারণে রোগীদের পর্যাপ্ত বিছানা দিতে পারছি না।’
নথি অনুযায়ী, ২০০৩ সালে হাসপাতালটি ১০০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে রোগীর চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবকাঠামো ও সেবার সক্ষমতা কতটা বাড়ানো হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ২০০১ সালে একটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও সেখানে এখনো বহির্বিভাগের কার্যক্রম চলছে।
গত ৫ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
রোগীদের জন্য বরাদ্দ অর্থ ও সরঞ্জাম যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা তদন্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই টাকাগুলো রোগীদের জন্য সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখব।’
এদিকে সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমানের দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তিনি ছয় বছরের বেশি সময় ধরে একই হাসপাতালে আছেন। হাসপাতালের খাবার ও ওষুধ সরবরাহসহ ঠিকাদারি কার্যক্রমে তার প্রভাব বা স্বার্থসংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বদলি না হওয়ার বিষয়ে ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘বদলি তো সরকারের কাজ। আমাকে কেন বদলি করছেন না, এটা তারাই ভালো বলতে পারবেন। তবে আমি বদলির জন্য কাগজপত্র দিয়ে রেখেছি।
ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে তার পৃথক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক বলেন, তিন বছরের বেশি সময় একই কর্মস্থলে থাকার বিষয়ে তার কাছে কোনো পরিপত্র নেই। বদলি বা পদায়নের এখতিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের।
রোগীর চাপ, জনবল ও অবকাঠামোগত ঘাটতির পাশাপাশি বরাদ্দ ও ঠিকাদারি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব এখন নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই ও মন্ত্রীর ঘোষিত তদন্তের ফলের ওপর।





