আগাম আমনে মঙ্গা দূর, ফলনে খুশি কৃষক

আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করেছেন কৃষকেরা। ছবি: আগামীর সময়
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার চরাঞ্চলে আগাম জাতের আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এরইমধ্যে ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করেছেন কৃষকেরা। আগাম ধান ঘরে তোলায় আশ্বিন-কার্তিক মাসের মঙ্গা মোকাবিলা করে সংসারের প্রয়োজন মেটাতে পারছেন তারা। তবে ধানের দাম কম থাকায় কৃষকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা আছে। অন্যদিকে শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। দিনপ্রতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা মজুরি দিয়েও কোথাও কোথাও শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
চলতি আমন মৌসুমে হাতীবান্ধার চরাঞ্চলে ৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ আবাদ থেকে ৫৩০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ধানের পাশাপাশি খড় বিক্রি করেও লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা।
কৃষকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাব ও অকালবন্যার আশঙ্কায় আমন আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তারা। তবে প্রতিকূলতা কাটিয়ে মাঠে ভালো ফলন দেখা যাচ্ছে। আগাম জাতের ধান ঘরে ওঠায় উত্তরাঞ্চলে আশ্বিন-কার্তিক মাসে দেখা দেওয়া খাদ্যসংকট, যা স্থানীয়ভাবে ‘মঙ্গা’ নামে পরিচিত, তা মোকাবিলা করা সহজ হয়েছে।
হাতীবান্ধার পাটিকাপাড়া এলাকার কৃষক সামাদ মিয়া জানিয়েছেন, আগে দিনপ্রতি ৫০০ টাকা মজুরিতে শ্রমিক পাওয়া গেলেও এবার ৭০০ টাকার কমে কাজ করতে চাইছেন না অনেকে। তবে কোনো কোনো এলাকায় তিন বেলা খাবারসহ ৫০০ টাকা মজুরিতেও শ্রমিক কাজ করছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) উদ্ভাবিত ব্রি-৩৩ ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্ভাবিত বিনা-৭ জাতের ধান আগাম ফলন দিচ্ছে। এসব জাতের ধান চাষে খরচ তুলনামূলক কম। বিঘাপ্রতি ১৫ থেকে ১৬ মণ ধান উৎপাদন হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হারুন মিয়া জানিয়েছেন, উপজেলায় আগাম আমন ধানের আবাদ ভালো হয়েছে। আগাম ধান ঘরে তোলায় কৃষকেরা মঙ্গা মোকাবিলা করে পরিবারের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে পারছেন। ধানের পাশাপাশি খড় বিক্রি করেও তারা বাড়তি আয় করছেন।
তিনি আরও জানান, হাতীবান্ধা কৃষি অঞ্চলের ৪ হাজার ২০০ কৃষক সরকারি প্রণোদনা পেয়েছেন।




