ইলিশ ধরায় পদ্মায় অভিযান চালিয়ে কারাদণ্ড দেওয়া হলো ১০ জেলেকে

দেড় লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। ছবি: আগামীর সময়
মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার পদ্মা নদীতে ইলিশ সংরক্ষণে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১০ জেলেকে আটক করে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সময় প্রায় দেড় লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি উপজেলার কাজীরসুরা বাজারে অভিযান চালিয়ে অস্থায়ী দোকানপাট ভেঙে দেওয়া হয় এবং স্থানীয় লোকজনকে ইলিশ সংরক্ষণ আইন মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টা পদ্মা নদীতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা মৎস্য কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে এবং ইউএনও এইচ. এম. ইবনে মিজানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।
অভিযানে সহযোগিতা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি), সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, পুলিশের এসআই, থানা পুলিশ এবং নৌ-পুলিশের সদস্যরা। অভিযান চলাকালে ইলিশ আহরণে নিষিদ্ধ অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কাজীরসুরা বাজারে অভিযান চালিয়ে অস্থায়ী দোকানপাট অপসারণ করা হয়। অভিযানের সময় কাজীরসুরা বাজারে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিরা, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি এবং সাংবাদিকরা।
ইউএনও এইচ. এম. ইবনে মিজান জানালেন, ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইন মেনে চলতে সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে। আইন অমান্য করে নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ আহরণ, অবৈধ জাল ব্যবহার কিংবা সংরক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করা হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানালেন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রজনন ও বংশবিস্তার নির্বিঘ্ন রাখা এবং নদীতে ইলিশের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।



