নাজির উদ্দিন জেহাদের আত্মত্যাগে স্বৈরাচারের পতন হয়েছিল: আমান উল্লাহ আমান

ছবি: আগামীর সময়
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার নবগ্রামে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদ নাজির উদ্দিন জিহাদের ৩৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
আজ সোমবার দুপুর ২টার দিকে জিহাদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুল্লাহ হাবিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য খায়রুল কবির খোকন, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মনজু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু এবং উল্লাপাড়া উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এ সময় নেতারা শহীদ নাজির উদ্দিন জিহাদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।
উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে তৎকালীন স্বৈরাচারী এরশাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হন নাজির উদ্দিন জিহাদ। তার আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। তার স্মরণে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর জিহাদ দিবস পালন করা হয়।
১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সাতদলীয় জোটের কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি উল্লাপাড়া থেকে প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঢাকায় যান। রাজধানীর পল্টন এলাকায় আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন।
১৯৯০ সালের এরশাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নাজির উদ্দিন আহমেদ জেহাদ ছিলেন এমন একজন ছাত্রনেতা, যার আত্মত্যাগ আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে ছাত্রসমাজের ঐক্য ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামকে নতুন গতি দিয়েছিল। তিনি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সন্তান ছিলেন।
জেহাদের প্রধান ভূমিকা ছিল এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছাত্রনেতা হিসেবে অংশগ্রহণ এবং নিজের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে ছাত্রসমাজের ঐক্য ও প্রতিবাদকে আরও বেগবান করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে ওঠা।
শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ শুধু জাতীয় পর্যায়ের আন্দোলনের একজন ছাত্রনেতা নন; তিনি উল্লাপাড়ারও একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব। তার স্মৃতি নব্বইয়ের গণআন্দোলনে সিরাজগঞ্জের মানুষের অংশগ্রহণের কথাও মনে করিয়ে দেয়।



