চাকরি আগে, যোগ্যতার সনদ এলো ১৯ বছর পর

সংগৃহীত ছবি
খুলনার পাইকগাছার মঠবাটি জিজিপিজি দাখিল মাদ্রাসার আইসিটি শিক্ষক মো. রবিউল সরদারের শিক্ষকতা জীবন ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে চাঞ্চল্যকর অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। ২০০৪ সালে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করলেও চাকরি নেওয়ার প্রায় দুই যুগ পর ২০২৩ সালে তিনি আইসিটি বিষয়ের এক বছরের কোর্স সম্পন্ন করেছেন।
চাকরি আগে, যোগ্যতার সনদ এলো ১৯ বছর পর
রেকর্ডপত্র অনুযায়ী মো. রবিউল সরদার ২০০৪ সালে মঠবাটি জিজিপিজি দাখিল মাদ্রাসায় আইসিটি শিক্ষক পদে যোগদান করেন। অথচ তার আইসিটি বিষয়ের মূল এক বছরের অর্জিত সনদটি এসেছে —২০২৩ সালে, সাতক্ষীরার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সুন্দরবন ইনস্টিটিউট থেকে।
প্রশ্ন উঠেছে, ২০০৪ সালে নিয়োগ পাওয়ার সময় তার ন্যূনতম আইসিটি যোগ্যতা কী ছিল এবং কোন অদৃশ্য শক্তির বলে তিনি চাকরি পেয়েছিলেন? চাকরিতে যোগদানের প্রায় দুই দশক পর সনদ অর্জিত হলে তা ২০০৪ সালের নিয়োগের ক্ষেত্রে কীভাবে বৈধ হয়—তা নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
ডিআইএ’র তদন্ত ও অর্থ ফেরতের নোটিসের গুঞ্জন
মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট এস এম আমিনুল ইসলামের ভাষ্য মতে, রবিউল সরদারের এই বিতর্কিত নিয়োগ ও যোগ্যতার বিষয়টি নিয়ে এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) তদন্ত করেছিল। ডিআইএ পরিদর্শক তার সনদ যাচাই করার পর বড় ধরনের আপত্তি তোলেন এবং মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ১৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নোটিসও জারি করা হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে কোনো অদৃশ্য ইশারায় সেই ফাইল ও নোটিসের কার্যকারিতা থমকে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
শিক্ষা কর্মকর্তার রহস্যজনক মন্তব্য ও ক্ষোভ
এত বড় অনিয়মের অভিযোগ থাকার পরও পাইকগাছা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা পারভীনের নির্লিপ্ত বক্তব্য প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তিনি বলেন, নিয়োগের সময় প্রার্থীর যোগ্যতা নিয়ে যদি পূর্বে যাচাই হয়, তাহলে এটা নিয়ে আমি ইন্টারেস্টেড না। এ ছাড়া তিনি যদি বেতন পান, তাহলে কোনো সমস্যা আছে বলে আমি মনে করি না।
নিয়োগের সময় প্রয়োজনীয় আইসিটি যোগ্যতা না থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে রবিউল সরদার দাবি করেন, তখন দেওয়া সনদটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের বিষয়টি তিনি জানতেন না। এমন হবে তিনি বুঝতেও পারেননি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ২০২৩ সালে আইসিটি বিষয়ে কোর্স করে সনদ নেন। তার দাবি, এর আগেও তিনি বাইরে থেকে একটি কোর্স সম্পন্ন করেছিলেন।
প্রশাসনের প্রতি জরুরি পদক্ষেপের দাবি
এই নজিরবিহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির মূল উৎপাটন করতে অবিলম্বে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের জোরালো দাবি হলো—প্রথমত, ২০০৪ সালের মূল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ কমিটির রেজল্যুশন এবং সিলেকশন বোর্ডের কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পুনরায় যাচাই করা। দ্বিতীয়ত, ডিআইএ’র পূর্বের তদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রায় ১৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নোটিসের বিষয়টি জনসমক্ষে উন্মোচন করা। তৃতীয়ত, অবৈধ নিয়োগ ও ভুয়া যোগ্যতার বিষয়টি প্রমাণসাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ পর্যন্ত উত্তোলিত সরকারি বেতন-ভাতা ফেরত নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা।



