‘এই পাপের লাশ দেশে আসুক, চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন

মুন্সীগঞ্জে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন।
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা নিয়ে ‘এই পাপের লাশ দেশে আসুক, চাই না’ মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি আলোচনা করতে গিয়ে আবেগের বশে মন্তব্যটি করেছিলেন। কারও অনুভূতিতে আঘাত করা তার উদ্দেশ্য ছিল না।
আজ সোমবার বিকাল ৫টার দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নে একটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
কামরুজ্জামান রতন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।
সাংবাদিকদের তিনি বললেন, ‘এই মন্তব্যের কারণে এর মধ্যে আমি দুঃখ প্রকাশ এবং ক্ষমা চেয়েছি। আমি এই ভুলের জন্য অনুশোচিত। মানুষ মাত্রই ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। যেটা হয়েছে, তা অজ্ঞতার কারণে হয়েছে।’
মন্তব্যটির ব্যাখ্যা দিয়ে সংসদ সদস্য দাবি করলেন, ওই ঘটনা নিয়ে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি কথাটি বলে ফেলেছিলেন। পরে বিষয়টি জানার ও বোঝার পর তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষমা চেয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
কামরুজ্জামান রতন দুঃখ প্রকাশ করলেন, ‘মাফ করার এখতিয়ার একমাত্র আল্লাহতালার। এই পাপের জন্য আল্লাহতালা তাদের ক্ষমা করতে পারেন। এভাবে পাপী বলাটা আমার একেবারে অজ্ঞতাবশত হয়েছে।’
যারা তার মন্তব্যে কষ্ট পেয়েছেন, তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বললেন, ভবিষ্যতে ধর্মীয় বা অন্য যেকোনো বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ করবেন তিনি। কারও অনুভূতিকে ছোট করা বা অবজ্ঞা করার উদ্দেশ্য তার ছিল না বলেও উল্লেখ করেন।
এর আগে আজ সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে মন্তব্যটি প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চান কামরুজ্জামান রতন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ‘কড়া আলাপ’ শীর্ষক টকশোতে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদের ঘটনা নিয়ে আলোচনার সময় আবেগের বশে তিনি বলেছিলেন, ‘এই পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক, আমি তা চাই না।’
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সংকীর্ণভাবে আলোচনা করতে গিয়ে এমন মন্তব্য করা ঠিক হয়নি উল্লেখ করে তিনি লেখেন, নিজের বক্তব্য সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করছেন। তার মন্তব্যে নিহত ব্যক্তিদের স্বজন ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা যে কষ্ট পেয়েছেন, সেজন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।



