এক আঙিনায় কাজিমের শত ফলের বাগান

আমের ক্ষেত্রেও রয়েছে বৈচিত্র্য। ছবি : শিক্ষক কাজিমের ফেসবুক পেজ থেকে
পাহাড়ি লাল মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ একটি টিনের বাড়ি। কিন্তু বাড়ির ফটক পেরোতেই মনে হয়, যেন ছোট্ট একটি ফল গবেষণা কেন্দ্রে ঢুকে পড়েছেন। কোথাও থাইল্যান্ডের বারোমাসি কাঁঠাল, কোথাও অস্ট্রেলিয়ার মাল্টা, আবার পাশেই সৌদি খেজুর, রামবুটান, লঙ্গান কিংবা বিদেশি আঙুরের সারি। গাছের ডালে ঝুলছে নানা রঙের ফল। বাতাসে ভেসে আসছে ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ। প্রবেশমুখে একটি সাইনবোর্ড— ‘মাস্টার বাড়ি মিশ্র ফল বাগান’।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের পাহাড় অনন্তপুর গ্রামের এই বাড়িটিই এখন স্থানীয় মানুষের কাছে পরিচিত ভিন্ন কারণে। বাড়ির মালিক বাবুগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. কাজিম উদ্দিন। শিক্ষক পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি এখন একজন সফল ফলচাষি ও বিরল ফলের জাত সংগ্রাহক।
২০০০ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন কাজিম উদ্দিন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও মানসিক বিষণ্নতা ঘিরে ধরে তাকে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছিল— নিজেকে এমন কোনো সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে, যাতে মন প্রকৃতির কাছে ফিরে যেতে পারে। সেই পরামর্শই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
বাড়ির আঙিনার ১৭ শতক পতিত জমিতে প্রথমে ফুল ও ফলের গাছ লাগানো শুরু করেন। তার বাগানে রয়েছে দেশি-বিদেশি শতাধিক প্রজাতির ফলগাছ। থাইল্যান্ডের বারোমাসি আঠাবিহীন কাঁঠাল, অস্ট্রেলিয়ার হলুদ মাল্টা, সাদা জাম, রামবুটান, মিষ্টি তেঁতুল, সৌদি খেজুর, রুবি লঙ্গান, নানা জাতের এভোকাডো, শরিফা, বারোমাসি কদবেল, বারোমাসি আমড়া, করমচা, মিসরীয় ও পাকিস্তানি আনার, চেরি, লাল ও কালো ফিলিপাইনি আখ— সব মিলিয়ে যেন বিশ্বের নানা প্রান্তের ফলের মিলনমেলা।
শুধু তাই নয়, তার সংগ্রহে আছে ৩০টিরও বেশি জাতের আঙুর। আছে ট্রান্সফিগারেশন, থার্টি ওয়ান, আনার-ই-শাহী, বাই কুনুর, দোবস্কি, কার্ডিনাল, মার্সেল ফোর্স, গ্রিন লং ডিক্সনসহ নানা জাত। আমের ক্ষেত্রেও রয়েছে বৈচিত্র্য। চেক্সমাই, মিয়াজাকি, কিউজাকি, কিং অব চাকাপাত, আম্রপালি, হাঁড়িভাঙা, কাটিমন, বারি-৪, ব্যানানা— মোট ২০টির বেশি জাতের আমের গাছ রয়েছে তার সংগ্রহে।
কৃষি উদ্যোক্তা কাজিম উদ্দিনের ভাষায়, ‘ডাক্তার বলেছিলেন, প্রকৃতির সঙ্গে থাকেন। সেই থেকে গাছ লাগানো শুরু। এখন প্রতিদিন গাছের যত্ন নিতে নিতে মনে হয়, আমি গাছের ভাষা বুঝি। গাছের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক হয়ে গেছে। নতুন নতুন জাত সংগ্রহ করি, সংরক্ষণ করি। এটাই এখন আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।’



