চমেকে হাসপাতালে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ২০ মিনিট অন্ধকারে রোগীরা

ছবি: আগামীর সময়
বিদ্যুৎ বিভ্রাটে প্রায় ২০ মিনিটের জন্য অন্ধকারে ছিল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের একাংশ। আজ শনিবার সকাল সোয়া ১০টা থেকে ১০টা থেকে বিদ্যুৎ ছিল না মূল হাসপাতাল ভবনে। এতে করে রোগী ও স্বজনদের হাঁসফাঁস অবস্থার সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ (পিডিবি) স্টেডিয়াম কেন্দ্র সূত্র জানায়, একটি উপকেন্দ্র নির্মাণের জন্য শনিবার হাসপাতাল এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়। আগে থেকে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং টেলিফোনের মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়।
আজ সকাল ১০টায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর হাসপাতালের জেনারেটর চালু হয়। কিন্তু ১৫ মিনিট পর জেনারেটর বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে হাসপাতালের মূল ভবনে অন্ধকার নেমে আসে। এ সময় ওয়ার্ডগুলো অন্ধকার হয়ে যায়। রোগী ও স্বজনেরা মোবাইল ফোনের লাইট জ্বালিয়ে বসে থাকেন। রেডিওলোজি বিভাগের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। তবে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র এবং করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) চলেছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান। তবে শিশুদের আইসিইউতে কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ ছিল না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, ২০ মিনিটের বেশি বিদ্যুৎ বিহীন ছিলাম আমরা। রোগীরা অস্থির হয়ে পড়ে। পরে বিদ্যুৎ আসে। বিদ্যুৎ আসার পর সংকট কেটে যায়।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন জানান, এটা পিডিবির শিডিউল রক্ষণাবেক্ষনের জন্য বিদ্যুতের লোডশেডিং। জেনারেটর চলছিল। মাঝখানে ১০ মিনিটের জন্য জেনারেটরে সমস্যা দেখা দেয়। ওটা গণপুর্ত দেখে। পরে আমি বিদ্যুৎ বিভাগকে ফোন করলে তারা বিদ্যুৎ চালু করে দেয়।
জানা গেছে, বেলা ১১টার দিকে বিদ্যুৎ চলে আসে হাসপাতালে। হাসপাতালের মূল ভবনে বেশির ভাগ ওয়ার্ডের অবস্থান। এ ছাড়া ওই ভবনে আইসিইউ এবং সিসিইউ রয়েছে। রয়েছে অপারেশন থিয়েটারও।
জানতে চাইলে গণপুর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ চমেক এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান ইবনে কামাল আগামীর সময়কে বললেন, ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার ঘোষণা ছিল। এ সময় জেনারেটর চলছিল। হঠাৎ সোয়া ১০টার দিকে ১৫ মিনিটের জন্য জেনারেটর বন্ধ হয়ে যায়। পরে আবার চালু করা হয়।
মূল ভবনের জন্য ৫০০ কেভি ক্ষমতার দুটি জেনারেটর রয়েছে। একটি কিছুক্ষণ চালু থাকার পর তা বন্ধ করে অপরটি চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে চমেকের বিদ্যুৎ লাইন এবং জেনারেটর চালু করার দায়িত্ব নিয়োজিত গণপুর্তের ৮জন কর্মী অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করছেন। তাদের দুই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। জেনারেটরে তেল ঢুকাতে তারা দেরি করায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।
তবে হাসান ইবনে কামাল অভিযোগটির সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বলেন, অস্থায়ী কিছু কর্মী রয়েছেন। আমরা চাই স্থায়ী কর্মী। এ জন্য আবেদন করা হয়েছে। স্থায়ী হলে জবাবদিহিতা থাকে।






