Agamir Somoy E-Paper
শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
উপকূলে অল্পনার আশার বীজ
শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় চট্টগ্রাম

পাহাড়ের শহরে ‘বিষে’র পাহাড়

  • নগরীতে বর্জ্য জমতে জমতে ৩০০ ফুট স্তূপ
  • ছড়াচ্ছে বিষাক্ত তরল হুমকি জনস্বাস্থ্যের
  • বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও ল্যান্ডফিলের খোঁজে চসিক
আব্দুল্লাহ আল মামুন, চট্টগ্রাম
agamir somoy
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২০
পাহাড়ের শহরে ‘বিষে’র পাহাড়

ছবি: আগামীর সময়

দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে সবুজে ঘেরা কোনো অনুচ্চ পাহাড় বা টিলা। কাছাকাছি গেলেই নাকে ঠেকে তীব্র দুর্গন্ধ। নিঃশ্বাস নেওয়াও দায়। এটি কোনো প্রাকৃতিক পাহাড় নয়। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের প্রায় ৩০ বছরের গৃহস্থালি, শিল্প ও প্লাস্টিক বর্জ্যের বিশাল স্তূপ। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থান হালিশহর আনন্দবাজারের এই উন্মুক্ত ভাগাড়ের উচ্চতা বর্তমানে প্রায় ৩০০ ফুট।

বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ ও গ্রামীণ জনপদ আর তার ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে আছে ধোঁয়া ওঠা এই বিষাক্ত পাহাড়। নগরীর প্রধান দুটি উন্মুক্ত ভাগাড় হালিশহর ও আরেফিননগর অতিক্রম করেছে তাদের ধারণক্ষমতার চূড়ান্ত সীমা। আইন অনুযায়ী ৭০ লাখ মানুষের এই শহরের

বর্জ্যব্যবস্থাপনার জন্য ৭০০ একর জমির একটি সমন্বিত স্যানিটারি ল্যান্ডফিল প্রয়োজন। কিন্তু পুরো মহানগরীতে এমন কোনো একক জমি অবশিষ্ট আর নেই। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী বলেছেন, নতুন ল্যান্ডফিলের জন্য এরই মধ্যে ২৫ একর জায়গা কেনা হয়েছে। কেনা হবে আরও জমি। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। এজন্য বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প নেই। এই প্রকল্পের জন্য কয়েকটি প্রস্তাবও আছে। সরকার প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করলে বর্জ্য নিয়ে কাটবে এই সংকট। ৩০০ ফুটের বর্জ্যের এই স্তূপ পুরো শহরের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারজানা রহমান জুথি বলেছেন, ‘নতুন জমি অধিগ্রহণ করে ল্যান্ডফিল তৈরি বা বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চিন্তা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ, আমাদের বর্জ্যে আর্দ্রতা ও পচনশীল পদার্থ বেশি। তাই বাছাই ছাড়া মিশ্র বর্জ্য পোড়াতে গেলে তা কারিগরি ও আর্থিকভাবে ব্যর্থ হবে।’

এই সংকট উত্তরণে সমন্বিত কঠিন বর্জ্যব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিলেন ড. ফারজানা। তার প্রস্তাব, পচনশীল বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস বা কম্পোস্ট সার তৈরি এবং প্লাস্টিক-কাগজ পুনর্ব্যবহারের পর যে সামান্য অবশিষ্টাংশ থাকবে, শুধু সেটিই আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিলে ফেলতে হবে। এর বাইরে কোনো সংক্ষিপ্ত পথে হাঁটলে তা শহরের জন্য আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।

বিষাক্ত ধোঁয়া ও দূষণের কেন্দ্র আনন্দবাজার: সরেজমিনে হালিশহর আনন্দবাজার ডাম্পিং সাইটে গিয়ে দেখা যায়, একের পর এক ডাম্প ট্রাক ও খোলা ট্রাকে করে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ময়লা এনে ফেলা হচ্ছে। বড় এক্সক্যাভেটর দিয়ে সেই ময়লা ঠেলে তোলা হচ্ছে স্তূপের ওপর। বছরের পর বছর জমে থাকা বর্জ্য থেকে উৎপন্ন মিথেন গ্যাসের কারণে স্তূপের বিভিন্ন জায়গায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে জ্বলছে আগুন। কুণ্ডলী পাকিয়ে বের হচ্ছে দুর্গন্ধময় কালো ধোঁয়া।

বর্জ্যের এই পাহাড় থেকে চুইয়ে বের হওয়া কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত বিষাক্ত তরল বা লিচেট কোনো ধরনের পরিশোধন ছাড়াই গিয়ে মিশছে পাশের নিচু জমি ও নালা-খালে। স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কোনো ধরনের সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়াই নারী ও শিশুরা সেখান থেকে খালি হাতে কুড়াচ্ছেন প্লাস্টিক ও বোতল।

স্থানীয় শিক্ষক মোহাম্মদ আলী মঈনুর আক্ষেপ, ‘বাতাসে প্রতিনিয়ত এই বিষাক্ত ধোঁয়া ও দুর্গন্ধ চারপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

প্রতিদিন জমছে তিন হাজার টন বর্জ্য: সিডিএর খসড়া পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (ইএমপি) এবং স্ট্রাকচার প্ল্যানের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ৬৩ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ৬১ শতাংশই গৃহস্থালির। এ ছাড়া বাণিজ্যিক এলাকার বর্জ্য ২২ শতাংশ এবং রাস্তাঘাট ঝাড়ু ও নির্মাণকাজের বর্জ্য ১৭ শতাংশ। এসব বর্জ্যের ৬৩ শতাংশের বেশি পচনশীল জৈব বা খাদ্য বর্জ্য। প্রতিদিন উৎপন্ন বর্জ্যের প্রায় ৭১ শতাংশ কোনো ধরনের বাছাই বা প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়াই সরাসরি হালিশহর ও আরেফিননগর ডাম্পিং সাইটে ফেলা হয়। অনানুষ্ঠানিক খাতে টোকাই ও ভাঙাড়ি সংগ্রাহকদের মাধ্যমে মাত্র ৮ শতাংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। বাকি ২৬ শতাংশ বর্জ্য বা প্রায় ৭৮৫ টন ময়লা সিটি করপোরেশনের সংগ্রহ প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে যায়। এসব বর্জ্য নগরীর নালা, চাক্তাই, রাজাখালী ও মহেশ খাল হয়ে সরাসরি কর্ণফুলী নদী ও বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ছে, যা নাব্য ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে অনায়াসে।

পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে ভাগাড়: কঠিন বর্জ্যব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১ অনুযায়ী, যেকোনো বর্জ্যব্যবস্থাপনা ও ডাম্পিং সাইটের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশগত ছাড়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু মাস্টারপ্ল্যানের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সিটি করপোরেশনের আরেফিননগর ও হালিশহর ল্যান্ডফিলের কোনোটিরই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিলের নিয়ম অনুযায়ী, বর্জ্যের নিচে বিশেষ স্তর বসিয়ে বিষাক্ত তরল পাইপলাইনের মাধ্যমে শোধনাগারে নেওয়ার কথা থাকলেও চট্টগ্রামে তা করা হয় না। ফলে ভূগর্ভস্থ পানি ও আশপাশের খাল-জলাশয় মারাত্মক ভারী ধাতুর দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে।

নতুন ল্যান্ডফিলের জমি সংকট: আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, প্রতি ১ লাখ মানুষের জন্য ২০ থেকে ২৫ বছর মেয়াদে ৮ থেকে ১০ একর ল্যান্ডফিল প্রয়োজন। সেই হিসাবে চট্টগ্রাম মহানগরের বর্তমান জনসংখ্যার জন্য ৫০০ থেকে ৭০০ একর জমির একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ স্যানিটারি ল্যান্ডফিল দরকার।

সিডিএ তাদের খসড়া মহাপরিকল্পনায় নগরীর চারটি প্রান্তে পাঁচটি সম্ভাব্য স্থান মূল্যায়ন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ হালিশহরের কেইপিজেডসংলগ্ন চর এলাকা, উত্তর কাট্টলীর পোর্ট লিংক রোডের পাশের নিচু জমি, মোহরা, উত্তর পাহাড়তলী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা। কিন্তু মাঠপর্যায়ের মূল্যায়নে দেখা গেছে, চিহ্নিত স্থানগুলোর কোনোটিই এককভাবে ৫০০ থেকে ৭০০ একরের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম নয়। এমনকি দুটি পৃথক পূর্ণাঙ্গ ল্যান্ডফিল করার মতো উপযোগী জমিও মহানগরীতে নেই।

সমাধানের পথ ‘হাইব্রিড মডেল’: বড় আকারের জমির এই তীব্র সংকটের কারণে খসড়া মাস্টারপ্ল্যানে প্রচলিত পদ্ধতির বদলে একটি ‘হাইব্রিড সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে। এই মডেলের আওতায় হালিশহরের বর্তমান ৩০০ ফুট উঁচু ভাগাড়টিকে ঢাকার মাতুয়াইল বা ভারতের পুনে মডেলের আদলে মাটি দিয়ে ঢেকে, গ্যাস নির্গমন পাইপ ও লিচেট ড্রেনেজ বসিয়ে বিজ্ঞানসম্মতভাবে সুরক্ষিত করার কথা বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে বাসাবাড়িতেই সবুজ বিনে পচনশীল এবং হলুদ বিনে শুকনো বর্জ্য আলাদা করার ব্যবস্থা চালু করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বড় কাঁচাবাজারগুলোর পাশে কম্পোস্টিং প্ল্যান্ট স্থাপন এবং ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই (বিএসএফ) প্রযুক্তির মাধ্যমে জৈব বর্জ্যকে দ্রুত জৈব সারে রূপান্তরেও তাগিদ দেওয়া হয়েছে। শুকনো বর্জ্য বাছাইয়ের জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক কেন্দ্র গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রক্রিয়া শেষে অবশিষ্ট ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বর্জ্যের জন্য ৮০ থেকে ১০০ একরের দুটি ছোট নিয়ন্ত্রিত ল্যান্ডফিল সেল তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামপাহাড়ময়লা আবর্জনাবিষাক্ত পাহাড়
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise