‘ডা. রবিউল হোসেন ছিলেন মানবিক চিকিৎসক গড়ার অনন্য দৃষ্টান্ত’

নগরীর নেভী কনভেনশন হলে অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের শোকসভা অনুষ্টিত— আগামীর সময়
উপমহাদেশের কিংবদন্তি চক্ষু বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতি ও পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন শুধু একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক নয়, বরং মানবিক চিকিৎসাসেবা ও প্রতিষ্ঠান গড়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
ব্যক্তিগত খ্যাতি বা স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই ছিল তার জীবনের দর্শন। সেই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের মানবিক, দক্ষ ও জনকল্যাণমুখী হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান নাগরিক শোকসভায় আগত অতিথিরা।
আজ শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের নেভি কনভেনশন হলে কিংবদন্তি চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রবিউল হোসেনের স্মরণে আয়োজন করা হয় স্মৃতিচারণ ও নাগরিক শোকসভা।
এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বললেন, ‘আজ আমি মন্ত্রী হিসেবে নই, একজন মহান মানুষের স্মরণসভায় উপস্থিত হয়েছি তার কাজের প্রতি অনুপ্রাণিত হয়ে। তিনি ছিলেন আমার বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমার 'রবি চাচা'। বাবার সাথে ঢাকা মেডিকেল কলেজে একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন, পরে লন্ডনেও একসঙ্গে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন।'
চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আল নোমান বললেন, ‘ডা. রবিউল হোসেনকে কিংবা আমার বাবাকে যখন স্মরণ করি, তখন মনে হয়— মানুষ চলে যাওয়ার আগে আশপাশের মানুষের জন্য কী রেখে যাচ্ছেন সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।’
পাহাড়তলী আই ইনফার্মারির চিকিৎসক ডা. সোমা রানি বললেন, ‘অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে হাসপাতালের নাম ‘ডা. রবিউল হোসেন আই ইনফার্মারি অ্যান্ড ট্রেনিং কমপ্লেক্স’ করার দাবি জানান। এরপর বিশেষ অতিথির কাছে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়।’
চট্টগ্রাম আই হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ডা. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘এই হাসপাতাল থেকেই অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন ১৫০ থেকে ২০০ জন চক্ষু বিশেষজ্ঞ তৈরি করেছেন, যারা আজ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষের সেবা দিচ্ছেন।’
শোকসভায় আরও বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শিরীন পারভীন হক। তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের দীর্ঘদিনের পেশাগত ও পারিবারিক সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম আই ইনফার্মারি অ্যান্ড ট্রাস্টি বোর্ডের ব্যবস্থাপনা ট্রাস্টি ডা. কিউ.এম. অহিদুল আলম।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পিএইচপির চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের দুই ছেলে ডা. রাজীব হোসেন ও ডা. ইয়াজ হোসেন, বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসা সমিতির উপদেষ্টা গোলাম মোস্তফা, ময়মনসিংহ বিএনএসবি আই হাসপাতালের প্রধান পরামর্শক ডা. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, ডা. আবু নাসের, নাদের খান সহ বিশিষ্ট চিকিৎসক, সমাজসেবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।




