বন্দরের এনসিটি ইজারা : এখন আর ‘মাঠ গরম’ নেই

ছবি: আগামীর সময়
দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ও সবচেয়ে লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে ‘মাঠ গরম করা’ কর্মসূচি দিয়েছিল এতদিন।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে বিক্ষোভ মিছিল, মশাল মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি, অনশন পালন করে। ইজারা চুক্তি বাতিলের আগের দিন বন্দর অচলের হুঁশিয়ারিও আসে সংগঠনটির নেতাদের কাছ থেকে। এর মধ্যেই সরকার এনসিটি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষর করে ফেলে। ১৯ অক্টোবর আমরণ অনশন কর্মসূচি ছিল সংগঠনটির। তার আগেই আজ রবিবার কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা এলো।
ঘোষণার মধ্য দিয়ে সংগঠনটি নতুন কর্মসূচি থেকে নিজেদের ‘গুটিয়ে’ নিয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ শ্রমিকরা। যারা এরকম কর্মসূচি থেকে সরে এলেন তারা হলেন- বিএনপির অঙ্গসংগঠন চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
সবমিলিয়ে কর্মসূচি দিয়ে একমাস মাঠে ছিল সংগঠনগুলো। এমন এক সময়ে কর্মসূচি গুটিয়ে নিল যখন এনসিটি, সিসিটি বিদেশিরা পরিচালনা করলে চট্টগ্রাম বন্দরের হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর চাকরি কী হবে তা নিয়ে বেশ উৎকণ্ঠায় আছেন। একইসাথে এমন সিদ্ধান্তে বেশ সমালোচনা চলছে বন্দরের সাধারণ শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে। ‘কোন সিদ্ধান্ত’ ‘কিসের বিনিময়ে’ এমন কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে এমনকি তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ শ্রমিকরা।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবীর রবিবার বিকেলে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। তিনি লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমন, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান মহোদয়ের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আগামী ১৯ অক্টোবরের আমরণ অনশন কর্মসূচি স্থগিত করা হলো।’
একই স্ট্যাটাস দিলেন চট্টগ্রাম বন্দর অচল করে দেয়ার বক্তব্য দেওয়া ইব্রাহিম খোকন। যিনি বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক। বৈঠকে সংগ্রাম পরিষদের ১২ নেতা উপস্থিত ছিলেন। ছবিতে ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের চিঠি তুলে দেওয়ার সময় নেতাদের বেশ হাস্যোজ্জ্বল দেখা গেছে।
কিসের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবীর জানালেন, ‘শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরির নিশ্চয়তার দাবি উত্থাপন করেছি। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সেগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেই কর্মসূচি স্থগিত করেছি। প্রত্যাহার নয়। এখানে ভুল বোঝাবুঝির কিছু নেই।’
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল্লাহ বাহার জানালেন, ‘আমি এবিষয়ে মন্তব্য করব না। তবে এতটুকু বলব এই সিদ্ধান্ত বন্দর শ্রমিকদের ওপর প্রভাব ফেলবে। বিস্তারিত আমি সোমবার শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে বলব।’
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আগেই এনসিটি ইজারার বিরোধিতা ও বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ও চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি। দুটি সংগঠন অবশ্য ঢিলেঢালা কর্মসূচি দিয়েই এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। এখনও তা বহাল আছে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের এমন সিদ্ধান্তে অবশ্য শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) আগামীকাল সোমবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ও স্কপ নেতা ফজলুল কবির মিন্টু জানালেন, ‘এনসিটি ইজারার প্রতিবাদে আমরা বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাথে যৌথভাবে বেশ কিছু কর্মসূচি পালন করেছি। আজ ঢাকায় মন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার যে সিদ্ধান্তের কথা বলা হচ্ছে এর সাথে স্কপের কোনও সম্পর্ক নেই। আলোচনার আগে তারা আমাদের জানায়নি। আমাদের কর্মসূচি চলবে।’



