আগামীর সময়

ড. ইউনূসকে রাজপথে চান নাহিদ ইসলাম

ড. ইউনূসকে রাজপথে চান নাহিদ ইসলাম

সংগৃহীত ছবি

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা বিএনপিকে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং করে’ ক্ষমতায় এনেছে বলে অভিযোগ করেছেন নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। একইসঙ্গে অধ্যাদেশ বাতিলের ইস্যুতে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাজপথে নেমে আন্দোলন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আজ শনিবার পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে নেমে প্রেস ব্রিফিং করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।

‘যারা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে ছিলেন তারা এই অধ্যাদেশগুলো করেছিলেন। এখন যে বাতিল হচ্ছে, এগুলো নিয়ে তাদের কথা বলতে হবে। ড. ইউনূসকে মুখ খুলতে হবে। তারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেছে। এখন এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে, সংস্কার হবে না, তারা কোনো কথা বলবে না, ক্যারিয়ারে ফিরে যাবে— এটা হবে না।’

সাবেক উপদেষ্টাদের জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে বলে উল্লেখ করেন এই সংসদ সদস্য। ‘মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে আমরা তাদের ক্ষমতা দিয়েছিলাম। তারা আমাদের নিরাশ করেছে। কিন্তু যতটুকু অর্জন সে সময় হয়েছে, সেই অর্জন ধরে রাখতে তাদেরও মাঠে নামতে হবে। ড. ইউনূসকেও আমি রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানাচ্ছি’, বলছিলেন তিনি।

‘সংস্কার কেন্দ্র করে যা কিছু হচ্ছে এটা অপ্রত্যাশিত না। এই রাজনীতি ৫ আগস্টের পর থেকে, ঐকমত্য কমিশন থেকেই শুরু হয়েছে। ৫ আগস্টের পর দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। আমরা বলেছিলাম নতুন সংবিধান, বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচন চায়। তারা পুরোনো সবকিছু রেখেই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চায়। আমরা বলেছিলাম দেশের আমূল সংস্কার প্রয়োজন’, যোগ করেন তিনি।

নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ায় বিএনপি কোনো কিছুই তোয়াক্কা করছে না বলে দাবি করেন নাহিদ। তার ভাষ্য, ‘তারা গণভোটের গণরায় বাতিল করে দিয়েছে। এখন শুনতে পাচ্ছি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের ১০-১১টি তারা সংসদে আনছে না। তারা সেগুলো আইনে পরিণত করবেন না। এর মধ্যে অতিগুরুত্বপূর্ণ গুম প্রতিকার, মানবাধিকার কমিশন, বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ রয়েছে। এগুলো বাতিল করে তারা আসলে নির্বাহী বিভাগের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ভোগ করতে চাচ্ছে।’

বিএনপিকে সামগ্রিকভাবে সংস্কারবিরোধী দল হিসেবেও অভিহিত করেন এনসিপি আহ্বায়ক। বললেন, ‘গত ১৬ বছর তারা নির্যাতিত-নিপীড়িত হয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। কিন্তু মানুষ তাদের আন্দোলনে সাড়া দেয়নি। কারণ তাদের নেতৃত্বে মানুষের আস্থা ছিল না।’

‘আমরা সংসদে সমাধান চেয়েছিলাম। যেহেতু উপযুক্ত সমাধান পাচ্ছি না, তাই রাজপথে অবস্থান নিতে হচ্ছে। আমরা চাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ হোক, অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত হোক। বিএনপি সরকার বুঝতে পারছে না সামনে অর্থনৈতিক মন্দা আসছে। এ অবস্থায় সরকারের ওপর যদি জনগণের আস্থা না থাকে, বিএনপি সরকার পরিচালনা করতে পারবে না।’

    শেয়ার করুন: