রাজপথে বিরোধী দলের প্রথম বিক্ষোভ, কড়া বার্তা ১১ দলের

ছবি ভিডিও থেকে নেওয়া।
গণভোট ইস্যুতে সরকারের অবস্থানের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে মিছিলপূর্ব সমাবেশে ১১ দলের নেতারা দাবি করেছেন, সংস্কার এবং গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠছে সরকার। ‘ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে গেলে অতীত সরকারের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে’ বলে সরকারকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
এদিন দুপুরের পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১ দলের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকেন সমাবেশস্থলে। এ সময় তাদের হাতে ছিল ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’, ‘গণভোট মানতে হবে’—এমন নানা দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড।
১১-দলীয় ঐক্য ঢাকা মহানগরী আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। সমাবেশে সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করবেন না। এমন হলে জনগণকে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বিরোধী দল। মনে রাখা দরকার, রাজপথের আন্দোলনের ফলাফল কখনো সুখকর হয়নি সরকারি দলের জন্য।’
তার ভাষ্য, ‘আজ গণভোটকে অস্বীকার করা মানে শুধু ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অস্বীকার করা নয়, বরং এর মধ্য দিয়ে তারা আওয়ামী লীগের কায়দায় আবারও সব ক্ষমতা তুলে দিতে চায় এক ব্যক্তির হাতে।’
আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, ‘একটি দল পালিয়ে আশ্রয় পেয়েছে আরেকটা দেশে। জানি না, আপনারা সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইছেন কি না।’
সমাবেশে ১১-দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, জামায়াতের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল, শফিকুল ইসলাম মাসুদ, জামায়াত নেতা মোবারক হোসেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা নেতা রাশেদ প্রধান এবং নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মখলেসুর রহমান কাসেমী।
সমাবেশ শেষে আয়োজন করা হয় বিক্ষোভ মিছিলের। বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি চলে শান্তিনগর পর্যন্ত।

