কালরাত স্মরণে ‘ব্ল্যাক আউট’ হচ্ছে না

সংগৃহীত ছবি
২৫ মার্চের কালরাত স্মরণে ঘোষিত প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞের সূচনা করেছিল পাকিস্তানি বাহিনী, সেই গণহত্যা দিবসে বিদ্যুৎ ও আলো নিভিয়ে এক মিনিট প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ করা হবে। তবে রাতে জানানো হয়, এ কর্মসূচি পালন করা হবে না।
সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছিল, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ভয়াল রাত, যেদিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ চালিয়ে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ইতিহাসের অন্যতম বর্বর গণহত্যা শুরু করে সেই স্মৃতিকে ধারণ করে সারা দেশে এক মিনিটের প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ পালন করা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও সব ধরনের আলো নিভিয়ে রাখার পাশাপাশি মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কথা ছিল।
তথ্য বিবরণীতে আরও বলা হয়েছিল, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই), জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি মিশনগুলো এই কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকবে, যাতে জননিরাপত্তা ও কূটনৈতিক কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
তবে একই দিন রাতেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় জানানো হয়, পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচি আর পালন করা হবে না। কেন হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলো সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
২৫ মার্চের রাতটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে ‘কালরাত’ হিসেবে পরিচিত। ১৯৭১ সালের এই রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিত গণহত্যা চালায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তরসহ বহু স্থানে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হয়। শিক্ষক, ছাত্র, পুলিশ সদস্য, নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ- কেউই এই বর্বরতার হাত থেকে রেহাই পায়নি।
বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে চালানো হত্যাযজ্ঞ ইতিহাসে এক নির্মম অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। অনেক শিক্ষককে তাদের বাসা থেকে ডেকে এনে হত্যা করা হয়, ছাত্রদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করা হয়। একইসঙ্গে পুরান ঢাকা ও অন্যান্য এলাকায়ও আগুন, গুলি ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এই বর্বরতার প্রতিবাদেই বাঙালি জাতি সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় স্বাধীনতা।
বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে ২৫ মার্চকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে প্রতি বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ কর্মসূচি, যার মাধ্যমে সেই অন্ধকার রাতের স্মৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘ব্ল্যাক আউট’ কর্মসূচি একটি প্রতীকী প্রতিবাদ ও স্মরণের রূপ নিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আলো নিভিয়ে দিয়ে দেশজুড়ে নীরবতা পালন করা হয়, যেন ১৯৭১ সালের সেই অন্ধকার রাতের ভয়াবহতা অনুভব করা যায়। তবে এ বছর পূর্বঘোষিত সেই কর্মসূচি শেষ মুহূর্তে বাতিল ঘোষণা করা হয়।
















