শেয়ারবাজার
ব্যাংকগুলোর মুনাফায় বড় পতন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর ২০২৫ সালের ব্যবসায়িক চিত্রে দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা। আগের বছরের তুলনায় অধিকাংশ ব্যাংকের মুনাফা বাড়লেও চারটি ব্যাংকের বড় ধরনের লোকসানের প্রভাবে সামগ্রিকভাবে কমেছে খাতটির মুনাফা। এক্ষেত্রে আগের বছরের তুলনায় মুনাফায় পতন হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি বা প্রায় ৬৭ শতাংশ।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রকাশিত শেয়ারবাজারের ৩১ ব্যাংকের মধ্যে ৩০টির ২০২৫ সালের সমন্বিত (সাবসিডিয়ারিসহ) আর্থিক হিসাব থেকে মিলেছে এ তথ্য। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেলেও একমাত্র আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এখনো ওই বছরের ব্যবসায়িক তথ্য প্রকাশ করেনি।
তালিকাভুক্ত ৩০ ব্যাংকের ২০২৪ সালের ব্যবসায় ৪ হাজার ১৫০ কোটি ৬৬ লাখ টাকার নিট মুনাফা হয়েছিল, যা কমে ২০২৫ সালে হয়েছে ১ হাজার ৩৬৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর বছরের ব্যবধানে নিট মুনাফা কমেছে ২ হাজার ৭৮০ কোটি ৮৪ লাখ টাকার বা ৬৭ শতাংশ।
দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) সাবেক সভাপতি এএসএম শায়খুল ইসলাম (এফসিএমএ) আগামীর সময়কে বলেছেন, ব্যাংক খাতে নজিরবিহীন অনিয়ম হয়েছে। ফলে ব্যাংকের মুনাফায় পতন প্রত্যাশিতই ছিল। তবে ব্যাংকগুলো যদি সঠিকভাবে সঞ্চিতি গঠন করত, তাহলে মুনাফার পরিবর্তে লোকসান হতো।
মুনাফায় এই পতনের পেছনে প্রধানতম কারণ হিসেবে রয়েছে চার ব্যাংকের বড় লোকসান। ব্যাংকগুলো হচ্ছে— এবি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংক। এই চার ব্যাংকের আগের বছরের ৩ হাজার ৫৯৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার নিট লোকসান ২০২৫ সালে বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ৮৭৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোর লোকসান বেড়েছে ৬ হাজার ২৭৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বা ১৭৪ শতাংশ।
জানা গেছে, মুনাফা করা ২৬ ব্যাংকের মধ্যে ২১টির আগের বছরের তুলনায় ২০২৫ সালের ব্যবসায় উত্থান হয়েছে। বাকি পাঁচটি ব্যাংকের মুনাফা কমেছে। এ ব্যাংকগুলো হলো— ট্রাস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও এসবিএসি ব্যাংক।
ব্যাংকগুলোর ২০২৫ সালে ১ হাজার ৩৬৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা মুনাফা হলেও শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে নগদ লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করা হবে ২ হাজার ৬৭০ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এ হিসাবে মুনাফার ১৯৫ শতাংশ বিতরণ করা হবে। মুনাফার অতিরিক্ত ১ হাজার ৩০০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বা ৯৫ শতাংশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে দেওয়া হবে।
দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৮১৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা মুনাফা করে শীর্ষে উঠে এসেছে ব্র্যাক ব্যাংক। এরপর ১ হাজার ৩২৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিটি ব্যাংক। তৃতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছে পূবালী ব্যাংকের।
এ ছাড়া ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ৯৬৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, প্রাইম ব্যাংকের ৯০৯ কোটি ৯০ লাখ, ইস্টার্ন ব্যাংকের ৮৩৪ কোটি ৬১ লাখ, উত্তরা ব্যাংকের ৫৮৯ কোটি ৯২ লাখ, যমুনা ব্যাংকের ৫৭৪ কোটি ৪০ লাখ, এনসিসি ব্যাংকের ৪৭৬ কোটি ৩৭ লাখ, ব্যাংক এশিয়ার ৪০৭ কোটি ৮৩ লাখ, শাহজালাল ব্যাংকের ৩৬৮ কোটি ৩৯ লাখ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ৩৩৯ কোটি ৫৭ লাখ, ট্রাস্ট ব্যাংকের ৩৩৬ কোটি, সাউথইস্ট ব্যাংকের ৩৩৫ কোটি ৬৯ লাখ, ঢাকা ব্যাংকের ২৮০ কোটি ৯ লাখ, ইসলামী ব্যাংকের ১৩৬ কোটি ৮৫ লাখ, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ১২১ কোটি ৭২ লাখ, আল-আরাফাহ ব্যাংকের ৮৫ কোটি ২৩ লাখ, মিডল্যান্ড ব্যাংকের ৮২ কোটি ৩৬ লাখ, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ৮০ কোটি ৩৪ লাখ, ওয়ান ব্যাংকের ২৯ কোটি ৮৪ লাখ, ইউসিবির ২৩ কোটি ২৬ লাখ, এনআরবি ব্যাংকের ১৩ কোটি ৮১ লাখ, এনআরবিসি ব্যাংকের ১৩ কোটি ২৬ লাখ, রূপালী ব্যাংকের ৬ কোটি ৮৩ লাখ ও এসবিএসি ব্যাংকের ৮২ লাখ টাকার নিট মুনাফা হয়েছে।
মুনাফায় উত্থানের বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংক থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিট সুদ আয় কিছুটা কমলেও ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মতো সরকারি সিকিউরিটিজে কৌশলগত বিনিয়োগ থেকে বড় অঙ্কের মুনাফা এসেছে। উচ্চ সুদের বাজারে সরকারি বন্ড থেকে আসা আয় ব্যাংকটির প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে।
এদিকে আগের বছর তিনটি ব্যাংকের লোকসান হলেও ২০২৫ সালে চারটির হয়েছে। এ তালিকায় নতুন করে নাম লিখিয়েছে প্রিমিয়ার ব্যাংক। এ ব্যাংকটির আগের বছর ১৩৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা মুনাফা হলেও ২০২৫ সালে ৯৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকার লোকসান হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮৯৯ কোটি ১১ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে এবি ব্যাংকের। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আইএফআইসি ব্যাংকের ২ হাজার ৫৬০ কোটি ২২ লাখ টাকা ও তৃতীয় সর্বোচ্চ ন্যাশনাল ব্যাংকের ২ হাজার ৪৩০ কোটি ৯০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।




