আগামীর সময়

এখনো প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের অপেক্ষায় যারা

এখনো প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের অপেক্ষায় যারা

সংগৃহীত ছবি

ঈদ মানেই আনন্দ, নতুন কাপড়, ভালো খাবার আর পরিবারের মুখে একটু হাসি। সেই আশাতেই দিন গুনেছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। ভেবেছিলেন, ঈদের আগে পাওয়া সামান্য উপহারটা দিয়ে হলেও পরিবারের জন্য কিছু করবেন। কিন্তু বাস্তবতা তাদের জন্য ভিন্নই রয়ে গেল। প্রতিশ্রুতি ছিল, আশাও ছিল তবু ঈদ পেরিয়ে গেল, সেই উপহার আর পৌঁছাল না তাদের হাতে।

দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রদের হাতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই ঘোষণায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন কর্মীরা। ভেবেছিলেন, অন্তত ঈদের সময়টুকু একটু স্বচ্ছলতায় কাটবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ভিন্ন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রায় আড়াই হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী এখনো সেই পাঁচ হাজার টাকার অনুদান পাননি। অর্থাৎ, মোট কর্মীদের দুই-তৃতীয়াংশই এখনো অপেক্ষায়। তারা জানেন না কবে আসবে সেই প্রতিশ্রুত উপহার।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মার সঙ্গে কথা হয়। জানালেন, যারা প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের টাকা পাননি, তাদের মার্চ মাসের বেতনের সঙ্গে পাওয়ার কথা ছিল। কেন এখনো পাননি, তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানা গেছে, রমজান মাসে প্রতিজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর জন্য পাঁচ হাজার টাকা করে ঈদ উপহার ঘোষণা করা হয়। গত ১৫ মার্চ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের মেয়রদের হাতে সেই অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের হাতেও ৩ হাজার ২৭০ জন কর্মীর জন্য ১ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়।

এরপর ১৭ মার্চ নগরীর কাজীর দেউড়ি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক হাজার কর্মীর হাতে সরাসরি অনুদান তুলে দেওয়া হয়। বাকি ২ হাজার ২৭০ জনের ব্যাংক হিসাবে ঈদের আগেই টাকা পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তব হয়নি।

৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মী শিবু দাসের কণ্ঠে ঝরে পড়ে সেই না পাওয়ার বেদনা। আক্ষেপ করে বললেন, ‘ঈদের আগে পাঁচ হাজার টাকা করে দিবে বলে শুনেছিলাম। কিন্তু এখনো পাইনি। কবে পাবো, সেটাও জানি না। বাজারের এই দামে সংসার চালানো কঠিন, ওই টাকাটা পেলে একটু স্বস্তি পেতাম।’

একই সুরে কথা বললেন রনি দাস ও ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ডের দর্পন দাস। তাদের অভিযোগ, যারা কনভেনশন সেন্টারের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন, তারাই কেবল টাকা পেয়েছেন। বাকিরা এখনো অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। কবে মিলবে সেই উপহার তারও কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই।

ঈদের আনন্দ ফুরিয়েছে, কিন্তু অপেক্ষা ফুরোয়নি। প্রতিশ্রুত সেই সামান্য উপহার, যা হয়তো তাদের পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পারত। কিন্তু এখনো রয়ে গেছে অধরা।

    শেয়ার করুন: