চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডে চতুর্থ সন্তানের সিদ্ধান্ত ভ্যান্স দম্পতির

স্ত্রী উষা ভ্যান্সের সঙ্গে জেডি ভ্যান্স—রয়টার্স
চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে চতুর্থ সন্তানের কথা ভাবতে অনুপ্রাণিত করেছে। এমনটাই জানিয়েছেন জেডি ভ্যান্স নিজেই। রক্ষণশীল প্রভাবশালী ভাষ্যকার চার্লি কার্ক ছিলেন ভ্যান্সের ‘বন্ধু’।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত তার বই থেকে নেওয়া এক নিবন্ধে ভ্যান্স লিখেছেন, তিনি বহু বছর ধরে উষাকে আরেকটি সন্তান নেওয়ার কথা বলছিলেন। কিন্তু জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসার পর উষা এ বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না। পরে টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএর প্রতিষ্ঠাতা চার্লি কার্কের মৃত্যুর পর তার শোকাহত স্ত্রী এরিকা কার্কের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়।
ভ্যান্স লিখেছেন, ‘বহু বছর ধরে আমি উষাকে আরেকটি সন্তান নেওয়ার কথা বলেছি। আর বহু বছর ধরে সে বলেছে, তার আর সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা নেই—বিশেষ করে জনসেবার কারণে আমরা জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসার পর।’
ভ্যান্স দম্পতির ইতোমধ্যে তিন সন্তান রয়েছে—ইউয়ান (৮), বিবেক (৬) ও মিরাবেল (৪)।
তিনি জানান, গত বছর উটাহ অঙ্গরাজ্যের একটি কলেজ ক্যাম্পাসে তার ‘সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও রাজনৈতিক জগতের সবচেয়ে কাছের আস্থাভাজন’ চার্লি কার্ক গুলিতে নিহত হওয়ার পর তিনি ও উষা উটাহে যান। সেখানে এরিকা কার্ককে তার স্বামীর মরদেহ অ্যারিজোনায় নিয়ে যেতে সহায়তা করেন তারা।
ভ্যান্স লিখেছেন, ‘আমার স্ত্রী যখন চার্লি কার্কের বিধবা স্ত্রীকে তার গভীর শোকের প্রথম দিনে জড়িয়ে ধরে ছিলেন, তখন কান্নার ফাঁকে এরিকা উষাকে বলেছিলেন, চার্লির সঙ্গে তার মাত্র দুটি সন্তান হওয়ার জন্য তিনি আফসোস করছেন।’
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কথোপকথন উষার মনে ‘কিছু একটা বদলে দেয়’। তিনি লেখেন, ‘আমার বন্ধুকে সমাহিত করার কিছুদিনের মধ্যেই উষা আমাদের চতুর্থ সন্তানের গর্ভধারণ করে—একটি ছেলে সন্তান।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘একটি জীবন আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু আরেকটি জীবন আমাদের দেওয়া হয়েছে। ঈশ্বর কেন এভাবে কাজ করেন, আমি জানি না। তবে আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ যে শিগগিরই আমাদের জীবনে আনন্দের আরেকটি উৎস আসছে। আমাদের পরিবারের বন্ধনে আরেকজন যুক্ত হবে, আশা করি গির্জার সম্প্রদায়ের সঙ্গেও। আরেকজন মানুষ, যাকে আমি গেয়ে শোনাব—“জেসাস লাভস মি, দিস আই নো।” আরেকটি সুন্দর আত্মা, যাকে দেখে আমি ঈশ্বরের অপূর্ব সৃষ্টির প্রেমে পড়ব।’
ভ্যান্স পরিবার হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সন্তান নেওয়া চতুর্থ ‘সেকেন্ড ফ্যামিলি’। ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম জনসমক্ষে দেওয়া ভাষণে ভ্যান্স বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আরও বেশি শিশুর জন্ম’ দেখতে চান তিনি।
চতুর্থ সন্তানের খবর ঘোষণার সময় ভ্যান্স বলেছিলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ই তিনি আরেকটি সন্তান নেওয়ার কথা ভাবেন। তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, তখন উষা তাকে দুটি বিকল্প দিয়েছিলেন—‘হয় তুমি ভাইস প্রেসিডেন্ট হবে, নয়তো আমরা চতুর্থ সন্তান নেব।’
পরে ভ্যান্স মজা করে বলেছেন, তিনি ‘দুটোই পেয়েছেন’, কারণ তিনি ‘খুবই প্রভাবিত করতে পারেন’।
অন্যদিকে উষা ভ্যান্স নিজেও পরে চতুর্থ সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলেছেন। এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন আমরা চতুর্থ সন্তান নেব কি না। আমি কখনোই সেই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি বন্ধ করিনি।’
তিনি বলছিলেন, ‘আমি দুই সন্তানের পরিবারে বড় হয়েছি এবং আমার মনে হতো সেটাই আদর্শ সংখ্যা। পরে আমারও দুই সন্তান হলো, কিন্তু তখন মনে হয়েছিল—না, যেন কিছু এখনো বাকি আছে। তাই আমি সত্যিই তৃতীয় সন্তান চেয়েছিলাম।’
উষা ভ্যান্সের ভাষায়, তিন সন্তান নিয়ে তাদের পরিবার একসময় পূর্ণ মনে হলেও পরে তিনি ‘ধীরে ধীরে সেই সম্ভাবনা নিয়ে আরও বেশি উচ্ছ্বসিত’ হয়ে ওঠেন।
তিনি বলছিলেন, ‘আর যদি সুযোগ থাকে, তাহলে সেটা আমার গ্রহণ করা উচিত।’




